ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেটার বিরাট কোহলি এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটার আব্দুল রাজ্জাকের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল, যা কখনোই সে সম্পর্কে তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সম্প্রতি ‘দ্য লালানটপ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামান্না এসব গুজবের কথা পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তার এসব সম্পর্ক নিয়ে প্রচারিত খবরগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মজার ধরনের গুজব। বিরাট কোহলির সঙ্গে তার পরিচয় মূলত একদিনের একটি বিজ্ঞাপনের কাজের মাধ্যমে, যা শেষ হওয়ার পর তিনি আর কখনো বিরাটের সঙ্গে দেখা করেননি বা কথা বলেননি। তামান্না জানিয়েছেন, “আমার খুব খারাপ লাগছে কারণ আমি মাত্র একদিনের জন্য তার সাথে দেখা করেছি, শুটিংয়ের পর আর কখনো দেখা হয়নি, আর না আমি তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগে আছি।

অন্যদিকে, ২০২০ সালে গয়না দোকানের এক অনুষ্ঠানে আব্দুল রাজ্জাকের সঙ্গে তামান্নার একটি ছবি ভাইরাল হয়, যা থেকে তার এবং রাজ্জাকের সম্পর্কে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে তামান্না সেসব গুজবকে ‘ভুল তথ্য’ বলে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ইন্টারনেট এমন একটা জায়গা যেখানে মজার মজার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আমার এবং রাজ্জাকের সম্পর্কে বলছেন যেন আমরা বিয়ে করেছি এবং তার ২-৩টি সন্তান আছে, যা একেবারেই সত্য নয়। এটা খুবই লজ্জাজনক এবং আমার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।”
তামান্না স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুই ক্রিকেটারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রচারিত সব খবর সম্পূর্ণ ভুল এবং এসব গুজবের পেছনে কোনো বাস্তবতা নেই। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে যাদের কোনও সম্পর্ক নেই, তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা আমার জন্য অনেক অস্বস্তিকর।” তিনি মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এটা খুবই বিব্রতকর যখন মিডিয়া আপনাকে এমন একজনের সঙ্গে যুক্ত করে যার সঙ্গে আপনার কোনও সম্পর্ক নেই।”
সময়ের সঙ্গে এসব ভুল ধারণা ও গুজব মোকাবিলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তামান্না জানান, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ নয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, “সময় লাগে, কিন্তু অবশেষে মেনে নিতে হয় যে, এ বিষয়ে কারো করার কিছু নেই।” তামান্না আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এসব ভিত্তিহীন গুজব বন্ধ হবে এবং মিডিয়া ও মানুষজন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বিচার করবে।
এই সাক্ষাৎকারে তামান্না ভাটিয়া তার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও স্পষ্টতা আনার চেষ্টা করেছেন এবং অবান্তর গুজবের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, এসব গুজবের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে বিরাট প্রভাব পড়েছে, যা থেকে তিনি সবার কাছে অবগতির জন্য এই বক্তব্য দিয়েছেন।




