জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক কল্পবিজ্ঞান সিনেমা সিরিজ ‘অ্যাভাটার’ আবার বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে যখন এর তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) একই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে এবং ঢাকা শহরের স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সিনেমা হলে বাংলাদেশেও প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০০৯ সালে প্রথম ‘অ্যাভাটার’ মুক্তি পাওয়ার পর এটি দ্রুতই দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়, কারণ এটি শুধুমাত্র একটি কল্পবিজ্ঞানধর্মী গল্পই নয়, বরং ভিজ্যুয়াল অ্যাকশন, পরিবেশগত বিশালত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক আবেগের সঙ্গে এক মিশ্র অভিজ্ঞতা হিসেবে দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় ছবি ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়েতে অব ওয়াটার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং সিরিজটির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবার তৃতীয় কিস্তিটি যার নাম ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ তাতে আবারও সেই বিশ্ববিখ্যাত প্যান্ডোরা ग्रह-এর বিস্ময়কর জগতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে সুলি পরিবারের গল্প আরও নতুন ভাঙচুর, শোক ও উত্তেজনার সঙ্গে সামনে আসে, বিশেষ করে নাভি সম্প্রদায়ের নতুন দল ‘অ্যাশ পিপল’-এর আবির্ভাবetm ।

20 Dec 2025 | Pic: Collected
ঢাকা সহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ঘরগুলোতে স্ক্রীনে প্রদর্শিত এই নতুন ছবি বিশ্বের সঙ্গেই সমান দিনে মুক্তি পাওয়ায় বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীরা আনন্দিত ও উত্তেজিত; স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রদর্শনী শুরুর প্রথম দিনেই দর্শকের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুক্তির পূর্বের লন্ডনে বিশেষ প্রদর্শনী ও সমালোচকদের মতামত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সিনেমাটি বড় পর্দার ভিজ্যুয়াল ও ইমারসিভ (immersive) অভিজ্ঞতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যেটি সাধারণ 2D বা ছোট পর্দায় পুরোপুরি অনুভূত হয় না; বরং দর্শকরা মূলত IMAX বা উন্নত প্রযুক্তি সহ সিনেমা ঘরে তা উপভোগ করতে উৎসাহী।
অভিনয়ে রয়েছে সুপরিচিত স্যাম ওয়ার্থিংটন, জো স্যালদানা, সিগরনি উইভার, স্টিফেন ল্যাং, কেট উইন্সলেট ও উনা চ্যাপলিন সহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী, যারা পূর্বের ‘অ্যাভাটার’ ছবিগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের দক্ষ অভিনয়, জেমস ক্যামেরনের পরিচালনা দক্ষতা এবং সিনেমাটির প্রযুক্তিগত দিকগুলো—বিশেষ করে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, 3D ও ডিজিটাল এনিমেশন—এ মিলিয়ে একটি অসাধারণ সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যা সিরিজটিকে প্রতিবারই নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর মুক্তির খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে সামাজিক মাধ্যমেphoon মন্তব্য করছেন যে “আবার প্যান্ডোরা-র বিশাল দুনিয়ায় ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়ে তারা উত্তেজিত”। দর্শকরা মূলত সিনেমাটির গল্পের গভীরতা, ভূ-প্রকৃতি ও চরিত্র-উন্নয়নের পাশাপাশি বিজ্যুয়াল কাহিনি-প্রকাশের নতুন মাত্রা-র জন্য প্রতীক্ষা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং বড় পর্দায় সিনেমা দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও এক বার্তা, কারণ ‘অ্যাভাটার’ ধারাটি ভিজ্যুয়াল পাণ্ডুরতা, পরিবেশগত অনুভূতি ও নাটকীয় গল্প বলার ক্ষেত্রে সিনেমা-প্রযুক্তির শীর্ষ শিখরে অবস্থান করে।
এই মুক্তি ঢাকায় পর্যটকদের জন্যও একটি বড় বিনোদন অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ সাধারণ ছুটি ও উৎসবকালীন সময়ে এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্তরের সিনেমা মুক্তি বাংলাদেশের সিনেমা-দর্শকদের মধ্যে বড় উৎসাহ ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ-এর বক্স অফিস রেকর্ড ও দর্শক প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী কেমন হয়—এটি আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো পরিষ্কার দেখা যাবে। যাইহোক, এই ছবি সিরিজের ভবিষ্যৎ দিকে তাকিয়ে থাকা দর্শকদের জন্য নতুন রোমাঞ্চের দিশা দেখাচ্ছে, আর সূত্র মতে আগামী Avatar 4 ও Avatar 5 মুক্তির পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ২০২৯ ও ২০৩১ সালে আসার কথা আছে এবং সিনেমাটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাব্যিক অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে রাখবে।



