বলিউডের ‑ক্লাসিক Dilwale Dulhania Le Jayenge (DDLJ)–র ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের জনপ্রিয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র Leicester Square–এ অবস্থিত “Scenes in the Square” আর্ট ট্রেইল–এ ব্রোঞ্জের একটি নতুন ভাস্কর্য উন্মোচিত করেছে, যেখানে দেখা গেছে ফিল্মের ঐতিহাসিক চরিত্র Shah Rukh Khan ও Kajol — যথাক্রমে রাজ ও সিমরান । এই ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিজেই শাহরুখ–কাজল সহ কাজলের সন্তানরা; বৃষ্টিজল ছোঁড়া, ছাতা হাতে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে পুরনো সিনেমার সেই ম্যাজিক মুহূর্ত পুনর্জীবিত হয়েছে।
7 Dec 2025 | Pic: Collected
ভাস্কর্যটি তৈরি হয়েছে DDLJ–র ঐতিহাসিক সেই বিখ্যাত দৃশ্য যেখানে রাজ ও সিমরান একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন; সেই পোজ ও মূহূর্তকে স্কেলে ধরা হয়েছে ব্রোঞ্জে। কলকাতাসহ সমগ্র দুনিয়ায় চলতে থাকা DDLJ প্রেমীদের জন্য এটি এক প্রতীকী সম্মান, এবং একই সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার গ্লোবাল মর্যাদার এক প্রতিফলন।
উন্মোচনের সময়, বৃষ্টির অবাধ্য ধারা বিশুদ্ধ রোমান্টিক প্লটের মতো ভাস্কর্য এবং অনুষ্ঠানের মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। ভক্তরা ছাতা হাতে, উৎসবমুখর আবেগ নিয়ে, স্বজন পরিচিতি ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে তুলে ধরেছেন, “বৃষ্টিতে রাজ–সিমরানের পোজ আবার জীবন্ত হয়ে পড়েছে” যা দেখলে প্রজন্ম‑প্রজন্মের স্মৃতি ও অনুভূতি একসঙ্গে জেগে ওঠে।
ভাস্কর্য উন্মোচনকে ঘিরে শুধু লোকাল দর্শকরাই নয়; বিশ্বের অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অর্থে স্মৃতি শেয়ার করেছেন। অনেকেই বলছেন “DDLJ‑র প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে এই ঠিকানা পেয়ে গর্বিত”, আবার কেউ বলছেন, “মূল সিনেমার জাদু ফিরে পেলাম”। এমনকি কাজল ও শাহরুখও মন্তব্য করেছেন, অনুষ্ঠান ও ভাস্কর্যটিকে “অবিশ্বাস্য” ও “ভালোবাসার স্মৃতি” হিসেবে, যা ৩০ বছর পরও মানুষের মনে অমলিন রয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি মূর্তি উন্মোচন নয়; এটি এমন এক মাইলস্টোন যা দেখায় ভারতীয় সিনেমা শুধু দেশীয় সীমা ছাড়িয়ে, বিশ্বব্যাপী মানুষ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। লন্ডনের প্রতীকী স্কয়ার যেখানে আগে বিভিন্ন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সিনেমার চরিত্রদের মূর্তি ছিল সেখানে এখন রাজ ও সিমরানের মূর্তি যুক্ত হয়েছে, যা ভারতীয় সিনেমার গ্লোবাল অর্জনকে প্রতিফলিত করে।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্ত ছিল, যখন কাজল তার সন্তানদের সঙ্গে মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে বললেন “পুরনো স্মৃতি নতুনভাবে জীবন্ত হলো”। শাহরুখও বললেন, “এই ভালোবাসা, এই গল্প ৩০ বছর পরও মানুষের হৃদয় স্পন্দন করছে।” তাদের উভয়ের আবেগ এবং ভক্তদের উদযাপন একসঙ্গে মিশে এই ঘটনার গুরুত্ব ও প্রভাব আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশি, ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক যারা সিনেমা প্রেম করেন, তাঁদের জন্য এটা শুধু বিনোদন নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক সংযোগ, একটি স্মৃতিপত্র। লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে, বহু ভক্ত হয়তো আবারই নিজেদের জীবন, ভালোবাসা, নস্টালজিয়া ও সিনেমার প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন।
এ মুহূর্তে, “রাজ–সিমরান ভাস্কর্য উন্মোচন” শুধু একটি ঘটনা নয় এটি একটি যাত্রা, যাত্রা যেখানে সীমা, দেশ, ভাষা ভেঙে গেছে; যেখানে সিনেমার মাধুর্য, স্মৃতি ও অনুভূতি এক হয়ে বিশ্বকে স্পর্শ করছে।



