বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী চলচ্চিত্র ‘3 Idiots’ এর সিক্যুয়েল অবশেষে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রाप्त এই কালজয়ী সিনেমার পর প্রায় ১৫ বছর পর ফের সেই জাদু দর্শকের সামনে আনা হবে বলে ঘোষণা এসেছে আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে। সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে সিনেমাটির স্ক্রিপ্ট ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্রধান অভিনেতা আমির খান, কারিনা কাপুর খান, আর. মাধবন ও শারমান জোশি সবাই আবারও তাদের পূর্বদিনের চরিত্রে ফিরে আসতে যাচ্ছেন, যেখানে তাদের চরিত্রগুলোর জীবন কিভাবে বদলেছে তা নতুন গল্পে তুলে ধরা হবে। ছবিটি পরিচালনা করবেন বরাবরের মতো রাজকুমার হিরানি, এবং প্রযোজনা করবেন বিধু বিনোদ চোপড়া, রাজকুমার হিরানি ও আমির খান নিজেই।
11 Dec 2025 | Pic: Collected
প্রথম ‘3 Idiots’ সিনেমাটি ২০০৯ সালের ক্রিসমাসে মুক্তি পেয়ে বিনোদন, হাস্যরস, আবেগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনার মাধ্যমে মিলিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের একসাথে প্রশংসা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক মানেই জনপ্রিয় কৃতিত্ব অর্জন করে। সেই সিনেমা ভারতীয় বক্স অফিসে সর্বপ্রথম সিনেমাগুলোর একটি হয়ে ওঠে যেটি ২০০ কোটি রুপি ক্লাবে প্রবেশ করেছিল, এবং এখনও এটি বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন সংস্করণে তুলনা করা হয়।
সিক্যুয়েলটি মূল গল্পের ঠিক পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে তৈরি হবে যেখানে দেখা যাবে র্যাঞ্চো, ফারহান, রাজু ও পিয়া-র জীবনের পরবর্তীতে কী পরিবর্তন এসেছে এবং তারা আবার কিভাবে একত্রিত হচ্ছে একটি নতুন আবেগঘন ও হাস্যরসাত্মক অভিযানে। পিঙ্কভিলা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “স্ক্রিপ্ট-টি আগের মতোই মজার, আবেগী এবং অর্থবহ” এবং নির্মাতারা বিশ্বাস করেন এটি প্রথম ছবির সেই যাদু ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে। সিনেমার শুটিং ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তে বা মাঝামাঝি সময়ে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এটা গুরুত্বপূর্ণ যে এই সিক্যুয়েলের ঘোষণা আসে এমন সময়ে যখন পরিচালক রাজকুমার হিরানি তাঁর আগে ঘোষণা করা জীবনীধর্মী ছবি ‘দাদাসাহেব ফালকে’ প্রকল্পে সন্তুষ্ট নন এবং সেটি আপাতত স্থগিত করে ‘3 Idiots’ ২-এ পুরো মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সিনেমাটির টিম নতুন গল্প নিয়ে কাজ করছে, যাতে ইতিমধ্যেই দর্শক অভ্যস্ত চরিত্রগুলোর জীবন-যাত্রা দেখানো হবে এবং তরুণ-বয়স্ক উভয় দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় উপস্থাপন করা হবে।
সিক্যুয়েলটিতে মূল চার চরিত্রের সঙ্গে কি অন্যান্য স্মরণীয় চরিত্র ফিরে আসবে যেমন চাতুর, ভাইরাস বা মনাসহ অন্যান্য তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি; তবে প্রধান কেন্দ্রিক চরিত্রগুলোর পুনরায় যাত্রা নিশ্চিত হওয়ায় সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে। অনেক ট্রোল ও মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে দর্শকরা আগ্রহ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন প্রথম ছবিটি যথেষ্ট ভালো ছিল এবং সেটিকে পুনরায় যাত্রা করানো কি ঠিক হবে, তা নিয়ে মতামত ব্যতিদিন ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমন একটি কালজয়ী ক্লাসিকের সিক্যুয়েল তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ প্রথম অংশের আবেদন ও চরিত্রগুলোর আবেগ জটিল এবং দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সিক্যুয়েলটি যদি সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু নতুন উপাদান যোগ করতে পারে, তাহলে এটি স্বীকৃতি পেতে পারে; অন্যথায় দর্শক অপেক্ষা বা প্রত্যাশা থেকে হতাশও হতে পারে। তবে ফিল্মমেকাররা মনে করছেন — ১৫ বছর পর এই দল আবারও একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নস্টালজিয়া তৈরি হবে এবং নতুন প্রজন্মও আনন্দ পাবে।
নতুন ‘3 Idiots 2’ সহজভাবে গল্পের ধারাবাহিকতা হবে না এটি সেই তিন বন্ধুর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়, যেখানে তারা কেমন হাল পেয়েছে, কোন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে এবং তাদের সম্পর্ক কিভাবে বদলেছে সেই সব টানাপোড়েন ও হাস্যরসের গল্প আবারো দর্শকের সামনে তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে না শুধু একটি ছবির সিক্যুয়েল উপহার হবে, বরং পুরনো একটি গল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হবে, খুব সম্ভবত পুরনো দর্শক ও নতুন দর্শকদের জন্যই।
এই সিক্যুয়েলটির ঘোষণা প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমগুলি, অনলাইন নেটিজেন, ফ্যান পেজ ও সিনেমাপ্রেমীরা ইতোমধ্যেই উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার ঢেউ তুলেছে। কেউ কেউ বলছেন তারা নতুন গল্প দেখতে চাইছেন যেখানে বন্ধুরা বড় হয়েও জীবনে কী করেছেন, আবার কেউ বলছেন প্রথম ছবি-র ম্যাজিকটাই অপরিবর্তিত রাখা উচিত ছিল। এসব প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায় যে, ‘3 Idiots 2’ শুধু একটি সিক্যুয়েলই নয় এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা, যা প্রায় দেড় যুগ ধরে দর্শকদের মনে বাস করেছে।
সিক্যুয়েলের শুটিং শুরু হওয়ার পরে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে যেমন মুক্তির তারিখ, আরও চরিত্রের পুনরায় উপস্থিতি, গল্পের কনটেক্সট, গান-সংগীত এবং কি নতুন বার্তা নিয়ে সিনেমাটি এগিয়ে যাবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই সিক্যুয়েলটি দর্শকদের মনে বড় আশা তৈরি করেছে, এবং ২০০৯ সালের সেই গল্পের যাদু আবার নতুন ভাবে জীবন্ত হতে যাচ্ছে।



