ক্যান্সার শনাক্তে এক যুগান্তকারী রক্ত পরীক্ষা ‘গ্যালেরি’ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্রেইল কর্তৃক উদ্ভাবিত এই পরীক্ষাটি এক রক্ত পরীক্ষায় ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশেষ করে, যেসব ক্যান্সারের জন্য বর্তমানে কোনো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই, যেমন ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার, সেগুলোও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
গ্যালেরি টেস্ট ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএর ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত করতে পারে, যা টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তে ভাসতে থাকে। এই পরীক্ষাটি যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এক বছর ধরে গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরীক্ষাটি ক্যান্সারের ৬২% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং ৯৯% ক্ষেত্রে ক্যান্সার বাদ দিতে পেরেছে।

19 Oct 2025 | Pic: Collected
গবেষণার প্রধান, ড. নিমা নবাভিজাদেহ, বলেছেন, “এই রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের ধারণা আমূল বদলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রযুক্তি এমন অনেক ধরনের ক্যান্সার আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে, যখন চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে।”
গ্যালেরি টেস্টের ফলাফল ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক হয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ১% পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন, এবং তাদের মধ্যে ৬২% ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ক্যান্সার নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়াও, শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে, যেখানে চিকিৎসা সহজ এবং নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি।
এই পরীক্ষাটি ব্রেস্ট, বাওয়েল ও সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে ক্যান্সার শনাক্তের হার সাতগুণ বৃদ্ধি পাবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো— শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের তিন-চতুর্থাংশ এমন ধরনের, যেগুলোর জন্য কোনো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই; যেমন ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার।
গ্যালেরি টেস্টের সফলতা কেবল চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। যদি এই পরীক্ষাটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সম্ভব হবে, যা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।
তবে, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-এর নাসের তুরাবি সতর্ক করে বলেছেন, “অতিরিক্ত রোগ নির্ণয় এড়াতে আরও গবেষণা প্রয়োজন—কারণ কিছু ক্যান্সার হয়তো কখনোই প্রকৃত ক্ষতি করত না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই পরীক্ষাগুলো এনএইচএস গ্রহণ করবে কিনা, তা নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্ক্রিনিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বর্তমানে, গ্যালেরি টেস্টের মূল্য $৯৫০ এবং এটি Medicare বা অন্যান্য বীমা কাভারেজের আওতায় নেই। তবে, গ্রেইল কোম্পানি আশা করছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে এই পরীক্ষাটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং ক্যান্সার শনাক্তকরণে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।




