শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবিবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অযোগ্য এক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

Source: New Age BD. | 19 May 2025 | Pic: Collected
বিক্ষোভের পেছনের কারণ:
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে মো. তাজবিউল ইসলামকে পিএমই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, তাঁর প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা না থাকায় শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাঁর যোগ্যতা ঘাটতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে পুনরায় কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া:
পিএমই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান:
পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান স্বীকার করেন, “তাজবিউল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার সময় তাঁর একাডেমিক যোগ্যতা প্রয়োজনীয় মানের নিচে ছিল।” তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ সেলিম মো. আব্দুল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
শাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ সালে, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে, পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সময়েও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি:
- অযোগ্য শিক্ষক মো. তাজবিউল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
- শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান করা, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক হয় এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।




