বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মৌলিক মানবাধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি জানায়, সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিপজ্জনক।

Source: Ittefaq. | 22 May 2025 | Pic: Collected
চলতি বছরের ১০ মে, অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপর, ১২ মে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে, ফলে দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না । সরকার জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতাদের বিচার সম্পন্ন হয়।
এইচআরডব্লিউ-এর মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার খর্ব করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
অন্তর্বর্তী সরকার বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, এইচআরডব্লিউ-এর মতে, বাস্তবে তারা সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের দমন নীতিতে এগোচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, আগের সরকারের আমলেও গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তবে বর্তমান সরকার সেই অপরাধগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে ।
গুম প্রতিরোধে আইন ও কাঠামোর অভাব
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষায় যে কাঠামো থাকা দরকার, খসড়া আইনে তা নেই।” সংস্থাটি জানায়, গুম প্রতিরোধে প্রস্তাবিত আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ।
রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন বাতিলের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে, যা আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এইচআরডব্লিউ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা মানবাধিকার রক্ষা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করে। দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।




