যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এখন এক গভীর সংকটে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করার ক্ষমতা বাতিল করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬,৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

Source: BBC | 23 May 2025 | Pic: Collected
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানিয়েছেন, হার্ভার্ড “আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায়” এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে অপ্রমাণিত সম্পর্ক রয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপকে “বেআইনি” ও “প্রতিশোধমূলক” বলে অভিহিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত হার্ভার্ড সংশ্লিষ্ট সবাইকে ও আমাদের দেশের জন্য গুরুতর ক্ষতির হুমকি তৈরি করে এবং হার্ভার্ডের একাডেমিক এবং গবেষণা মিশনকে দুর্বল করে।”
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান ছাত্রী সারাহ ডেভিস বলেন, “আমাদের অনেকের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে এই খবরটি এলো। আমরা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবো কি না এবং এখানে কাজ চালিয়ে যেতে পারব কি না এরকম অনেক অনিশ্চয়তার ওপর স্পষ্টতই এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে।”
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড এই পদক্ষেপকে “বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর শতাধিক শিক্ষার্থী হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছেন বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গভীর উদ্বেগের কারণ।
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু হার্ভার্ড নয়, বরং বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদান মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক উৎকর্ষে অপরিসীম। এই সিদ্ধান্ত তাদের প্রতি অবিচার এবং বৈশ্বিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এখন সময় এসেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।




