বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দলীয় নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে এবং প্রতীক হিসেবে তারা বেছে নিতে চেয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা। তাদের মতে, শাপলা বাংলাদেশের নদী ও প্রকৃতি–নির্ভর সংস্কৃতির অংশ এবং গ্রামীণ জনজীবনের পরিচায়ক। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “শাপলা আমাদের গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক। এটি বাংলার মাটির গন্ধ মিশ্রিত একটি চিত্র।”

Source: BBC Bangla | 24 June 2025 | Pic: Collected
এনসিপি দাবি করেছে, তারা জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলাকে প্রতীক হিসেবে চেয়েছে। বিকল্প হিসেবে তারা কলম ও মোবাইল ফোনকেও তালিকায় রেখেছে, তবে মূল আগ্রহ শাপলাতেই। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “শাপলা এমন একটি প্রতীক, যার সঙ্গে দেশের মানুষ আত্মিকভাবে যুক্ত।”
তবে এনসিপির এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, শাপলা জাতীয় প্রতীকের অংশ—তাই কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়া উচিত নয়। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে শাপলা, ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকা রয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, “শাপলা মূল প্রতীক হওয়ায় এটি কোনো দলের প্রতীক হওয়া অনুচিত।”
তবে বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “যেহেতু ধানের শীষ বিএনপির প্রতীক, কাঁঠাল জাতীয় ফল হয়েও অন্য দলের প্রতীক হতে পারে—তেমনি শাপলাও প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হতে পারে।”
এরই মাঝে আরেক রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্য পূর্বের প্রতীক ‘কেটলি’ বাদ দিয়ে শাপলা বা দোয়েল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৯টি প্রতীক রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি বরাদ্দ হয়ে গেছে। নতুন ১১৫টি প্রতীকের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শাপলাও রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় এটি থাকবে কিনা, সেই বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, “শাপলা তালিকায় যুক্ত হলে কারা প্রতীকটি দাবি করছে এবং কার আবেদন যুক্তিযুক্ত, তা যাচাই করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।”



