ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গত কয়েক দিনের উত্তেজনার পর মঙ্গলবার রাতে একটি নতুন ধাক্কা লেগেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

Source: Dhaka Post | 24 June 2025 | Pic: Collected
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের পক্ষ থেকে আকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ইসরায়েলের গাজা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানেন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভেঙে ফেললেও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। আহতদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলায় কিছু বাড়ি ও যানবাহনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশ ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত তিনজনের মধ্যে দু’জন সাধারণ নাগরিক এবং একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আহতদের মধ্যে অনেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
যুদ্ধবিরতির মাঝেই কেন এই হামলা?
গত মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক” যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে এই ঘোষণার পর কিছুক্ষণের মধ্যে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে অনেক পর্যবেক্ষক। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে যাবে এবং উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল করবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের এই হামলা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা পাঠানোর জন্য পরিকল্পিত হতে পারে। ইরান সম্ভবত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নিয়ে আপস করতে চাইছে না এবং নিজের অবস্থান শক্ত করতে চায়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই হামলার খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে দু’পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তৎপরতা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক সংগঠন ও দেশ এই ধরনের আগ্রাসন রোধে একমত। তারা উল্লেখ করেছে, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তুতি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে হামলার তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও হামলা রুখতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা পরবর্তী সময়ে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির শিথিল হওয়ার আশঙ্কাকে জাগিয়েছে। তবে সরকার মনে করছে, সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে।
যুদ্ধবিরতির আলোকে ইসরায়েল-ইরান সংকট: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। এই হামলা প্রমাণ করে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রাখা কতটা কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থাভঙ্গ এবং একে অপরের প্রতি সন্দেহ যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায় শান্তি প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে এবং সংঘাত কমাতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখনও পুরোপুরি মিটেনি, এবং সামনের দিনে নতুন নতুন উত্তেজনার আশঙ্কাও রয়েছে।




