মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বললেন, ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” হয়েছে, ফলে তেহরানের সক্ষমতা ভেঙে গেছে ।
ভ্যান্স বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, তবে আমরা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস করেছি—এখন তারা এ ধরনের অস্ত্র তৈরি সক্ষমতা হারিয়েছে।” তাঁর মতে, তেহরান এখনই বুঝছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান যে কোনো সময় তাদের মাতৃভূমিতে পৌঁছাতে পারে।

Source: Ittefaq | 24 June 2025 | Pic: Collected
তিনি এও বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়েছে, সেটিও আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোর অংশ।” ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘রিজন রিসেট’, অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ হতে পারে ।
যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত হামলাটি ২২ জুন হয়। এতে একাধিক বাঙ্কার-বোস্টার বোমা সহ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ফোর্ডু, নাটান্জ ও ইসফাহান—ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র নিশ্চিতভাবে লক্ষ্য করা হয় ।
পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
- ইসরায়েলের উদ্বেগ: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে, ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
- ইরানের প্রতিক্রিয়া: তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, “যদি ইসরায়েল আক্রমণ বন্ধ করে, তাহলে আমরা কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না।” তবে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তি স্বীকার করেনি ।
- বিশ্বায়িত প্রতিক্রিয়া: বিশ্ব নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে সংহতি ও কূটনৈতিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ফরাসি ও চীনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আশার আলো দেখাচ্ছে।
হামলায় সামরিক-নাগরিক প্রাণহানির খবর না পেলেও, আতঙ্ক ও নিরাপত্তা চাপ বেড়েছে। দ্বিতীয় দফার হামলায় বড় ধরনের ধ্বংস ও সামরিক সংশ্লিষ্ট উপাদান বিনষ্ট করা হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও তেল বাজারে ইতিবাচক সংকেত এসেছে—মূল্য সাময়িকভাবে স্থিতিশীলতা পেয়েছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বাজারে বড় ওঠা-নামার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
ভ্যান্স বলেন, “আমরা যুদ্ধ করছে না, আমরা যুদ্ধ করছি পারমাণবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে।” তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সার্জিক্যাল’ হামলাগুলোই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে “মৌলিকভাবে পিছিয়ে দেবে” ।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, ইরান হয়তো ইউরেনিয়াম কোথাও অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে — তাতে হামলার ধ্বংস তারা কাটিয়ে উঠতে পারে । তাই ‘ধমানে ভাঙ্গা না ক্ষত’—এমন পরিস্থিতিতেও পুনরুদ্ধার ও প্রতিশোধের সম্ভাবনা থাকে।
ভ্যান্স বলেছেন, মার্কিন বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সম্ভাবনা ধ্বংস করা হলো, এবং যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শান্তির পথে আসার প্রথম ধাপ হতে পারে। তবে… ইরান এখনও আনুষ্ঠানিক শান্তি স্বীকার করেনি, হয়তো সরবরাহ স্থানান্তর করেছে—যা বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মাত্রা বাড়াচ্ছে।যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে এখন ঠান্ডা পরিস্থিতি। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতির জন্য দরকার কার্যকর কূটনৈতিক এবং পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক সমাধান।



