মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে “১২ দিনের যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও ইরান একই দিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে । ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু, ও ইরানের রাষ্ট্রনেতারা প্রত্যেকে নিজস্ব শর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—“এই যুদ্ধ কয়েক বছর চলতে পারত, মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করতে পারত, কিন্তু তা হয়নি” ।

Source: Dhaka Post | 25 June 2025 | Pic: Collected
সংঘাতের পথে অগ্রগতি ও সামরিক আঘাত
১৩ জুন ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যার ফলে ২০টিরও বেশি বড় কমান্ডার ও বৈজ্ঞানিক নিহত, এবং পারমাণবিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে । তার পরের দিন ইরান প্রতিশোধস্বরূপ কাতারে আমেরিকার বড় ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যদিও এতে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি । ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র আরও তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় গোপনে “Operation Midnight Hammer” নামে হামলা চালায়, যেখানে ৩০ ০০০ পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয় ।
পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতি ও জলবায়ু তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে “তীব্র মাত্রায় ধ্বংস” ঘটেছে, তবে ডিআইএ ও আইএইএ’র প্রাথমিক পর্যালোচনা বলছে—ভূগর্ভস্থ ভিত্তিতে মূল সরঞ্জামগুলো অক্ষত ।
IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন—বিশেষ করে ফোর্দোর “ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি” হয়েছে, তবে সঠিক মূল্যায়নের জন্য পরিদর্শকরা সেখানে যেতে পারেননি । ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের পারমাণবিক অংশীদারিত্ব বন্ধে সহায়তা করেছে ।
কে কি অর্জন করল?
- ইসরায়েল: প্রথমবার ইরানের পারমাণবিক কাঠামোতে হামলা চালিয়ে “নিউক্লিয়ার-সঙ্কট” প্রতিহত করেছে বলে দাবি করছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহযোগিতাও পাওয়া গেছে ।
- ইরান: নিজেকে “বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধকারী” হিসেবে উপস্থাপন করে, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে—বিশেষ করে পারমাণবিক উদ্দেশ্য সম্মুখে ।
- যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প আমন্ত্রণ দিল শান্তিপূর্ণ সমাধানের, “promising peace talks” শুরু হলো বলেও উন্মোচন করেছে ।
ক্ষতিসমূহ ও ভবিষ্যতের দ্বন্দ্ব
সংঘাতে ইরান প্রায় ৬০০ জন নিহত, ৪৭০০+ আহত, এবং ইসরায়েলে ২৮ জন নিহত, কয়েকশ আহত হয়েছে । যুদ্ধবিরতি বলা হলেও চলতি সময় উভয়পক্ষ প্রত্যাশিত লঙ্ঘন করেছে ও আক্রমণ চালিয়েছে , যা এখনো “Fragile ceasefire” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
- পারমাণবিক পুনর্নির্মাণ: ইরান ইতিমধ্যেই ফোর্দো থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলেছে এবং পুনর্গঠন সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন সম্ভব ।
- কূটনৈতিক পথ: কাতার ও ইউরোপ সমর্থিত মাধ্যমে “promising peace talks” শুরু হয়েছে, তবে মূর্ত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে ।
- ঝুঁকির দৃষ্টান্ত: টেকসই শান্তি না পেলে, ভবিষ্যতে এই সংঘাত পুনরায় তীব্র আকার ধারন করতে পারে—বিশেষত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ, ইসরায়েল–ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপের সংযোগে ।



