সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদপত্রের শিরোনাম ব্যাপারেই আজ চোখ কাড়া খবর হলো: পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সারারোগা এলাকায় একটি গোয়েন্দা ভিত্তিক অভিযানে পাকিস্তানি “আভিনন্দন আটককারী” মেজর সৈয়দ মোইজ আব্বাস শাহ নিহত হয়েছেন ।
৩৭ বছর বয়সী মেজর শাহ পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রূপ (SSG)-এর সশস্ত্র অফিসার ছিলেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বালাকোট বাতাস হামলার পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার আভিনন্দন ভার্থামান যখন মিগ‑২১ জেট থেকে লুপ্ত হয়েছিল, তখনই তাকে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনী। পাকিস্তান করেছিল যে, শাহই আভিনন্দনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন ।

Source: BBC Bangla | 26 June 2025 | Pic: Collected
গত মঙ্গলবার, স্থানীয় সময় ২৪ জুন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ‘সারারোগা’ অঞ্চলে মেজর শাহের নেতৃত্বে করোনগ্রিয় গোয়েন্দা অভিযানে মায়নমুক্তির কর্মসূচি চালানোর সময় তাকে টিউমার-বিরোধী সংগঠন তেহরীক‑ই‑তালিবান পাকিস্তানের (TTP) আতঙ্কবাদীদের সাথে গোলাগুলির সময় মারা যায় ।
আইএসপিআর (পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স’) নিশ্চিত করেছে—এই অভিযানে ১১ জন TTP সন্ত্রাসী নিহত এবং সাত জন আহত হয়। মেজর মোইজ আব্বাস শাহের পাশাপাশি ল্যান্স নায়েক জিবরান উল্লাহও প্রাণ হারান ।
শনিবার দুপুরে রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা গ্যারিসনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন । তাঁকে “বীরত্বের, ত্যাগের ও দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত” বলা হয়েছে—আইএসপিআরের বিবৃতিতে । এরপর তার মরদেহ নিজ শহর চাকার ওয়াল (চকওয়াল) নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হবে ।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ:
- আভিনন্দন ভর্তমানের আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতার:
২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত–পাক যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে আভিনন্দনের মিগ‑২১ মদ করে পাকিস্তানি এলাকা থেকে লোকে তাকে ঘিরে ধরার ঘটনা ঘটে। তখন ক্যাপ্টেন মোইজ আব্বাস শাহ দলবল নিয়ে তার কাছাকাছি এসে জনতা থেকে রক্ষা করেন । - শাহের ওঠানামা ও পুরস্কার:
সেই সাহসিকতার জন্য তিনি আদায় করেন বিশেষ মর্যাদা—পরে SSG-তে যোগ দেন এবং মেজর পদে পদোন্নতি পান । - TTP-র বিরুদ্ধে অপারেশন:
এই সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান গোপনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে—অত্যন্ত সেনসিটিভ ও বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে বিবেচিত দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তার নিয়োজিত ছিলেন শাহ। ।
মেজর মোইজ আব্বাস শাহের মৃত্যু পাকিস্তানে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে—উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য সম্মান আর দুঃসাহসী জীবনের বিনিময়ে তার প্রানত্যাগ হয়েছে। ২০১৯ সালে আভিনন্দন ভার্থামানের জীবনের গল্পে তিনি এক অবিস্মরণীয় শিরোনাম ছিলেন, আর এ বারের তীব্র তרג্যাতেও থাকলেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের সংহতি ও নিরাপত্তা সর্বদা চ্যালেঞ্জের মুখে—যেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে সামনে এসেছে।




