ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ২০২৫ সালের ২৬ জুন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী (F, M, J ক্যাটাগরির) ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাইভেসি ‘পাবলিক’ অর্থাৎ সর্বজনীন অবস্থায় রাখতে হবে। এই নতুন নির্দেশনাটি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পক্ষ থেকে আসা, যা যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অফিসগুলোতে কার্যকর করা হচ্ছে।

Source: Ntv | 26 June 2025 | Pic: Collected
নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীদের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশযোগ্যতার প্রমাণ সঠিকভাবে যাচাই করা এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তথ্যের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা নিশ্চিত করা। ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন সরকার ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারনেম বাধ্যতামূলক করেছে, কিন্তু এবার তাদের ‘গোপনীয়তা’ সেটিং ‘পাবলিক’ করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা না মানলে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।
ঢাকাস্থ দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে ভিসা অফিসাররা আবেদনকারীর পেছনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা ও যোগ্যতার যাচাই করতে পারবেন। সম্প্রতি পাকিস্তান, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই নিয়ম ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তবে এই নতুন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে অনেকেই গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক মতামত প্রকাশ করেন তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আইন ও তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য তথ্য যাচাই করা অবশ্যই জরুরি, তবে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে, ভিসা আবেদনকারীদের এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্রাইভেসি ‘পাবলিক’ করে রাখতে হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকা উচিত। এই নতুন নিয়মের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, আবেদনকারীদের উচিত নিয়মাবলী ভালোভাবে বোঝা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা।



