যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহুলাংশে সংরক্ষণ করে দিয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই রুলিংয়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের জারি করা নির্বাহী আদেশকে ফেডারেল আদালতের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে নিষিদ্ধ করার (nationwide injunction) ক্ষমতা এখন সীমিত। এই সিদ্ধান্ত কার্যত ট্রাম্পের বিতর্কিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।

Source: BBC | 28 June 2025 | Pic: Collected
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রায়কে ‘একটি বিশাল জয়’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি সংবিধানের ভিত্তিকে রক্ষা করেছে। তার ভাষায়, “দেশজুড়ে আমার আদেশ আটকে দেয়ার জন্য যে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিলো, তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই হুমকি থেকে মুক্তি দিল।”
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রথম দিনেই অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধেই অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি রাজ্য মামলা দায়ের করে। ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস ও ওয়াশিংটনের মতো রাজ্যগুলো এসব মামলা করে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিলো প্রাথমিকভাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয় এই আদেশগুলোর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিভাজনে রায় দেয়া হয়, যেখানে রক্ষণশীল বিচারপতিরা ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেন। যদিও আদালত সরাসরি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রায় দেয়নি, তারা বিষয়টিকে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিসর বিবেচনায় দেখেছে।
বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট বলেন, “ফেডারেল আদালত নির্বাহী শাখার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে না, তারা কেবল নির্দিষ্ট মামলার রায় দিতে পারে।” আরেক বিচারপতি ব্রেট কাভানফ বলেন, “আইনি অসঙ্গতির ক্ষেত্রে সর্বশেষ সিদ্ধান্তদাতা সুপ্রিম কোর্ট।”
তবে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র রায়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, “এই রায় সরকারের হাতে একটি উন্মুক্ত চেক তুলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট যদি কলমের খোঁচায় সংবিধান নিয়ে উপহাস করতে পারেন, তবে আদালত সেই প্রচেষ্টা থামানোর ক্ষমতা হারাচ্ছে।”
আইন বিশেষজ্ঞ স্যামুয়েল ব্রে বলেছেন, এই রুলিং যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তার মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফেডারেল আদালত ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে এখন ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশটি আদালতের মতামতের ৩০ দিন পর কার্যকর হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশ আরও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



