ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বাংলাদেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে, আর একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৬২ জন রোগী। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত তাদের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে।।

Source: Jugantor | 28 June 2025 | Pic: Collected
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ২৬২ জন রোগীর মধ্যে ৪৮ জন ঢাকার ভেতরের বাসিন্দা হলেও বাকী ২১৪ জনই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ঢাকার বাইরের অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ এ বছরও রেহাই দিচ্ছে না। চলতি ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৪৮৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৫৮৩ জন এবং নারী ৩ হাজার ৯০১ জন। এই সময়ে মোট ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে—তাদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি হয়। জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এলাকাগুলোতে এ মশার জন্ম বেশি হয়, যা সংক্রমণের হার বাড়িয়ে তোলে। শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামীণ অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ইতোমধ্যেই কিছু পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছে, মানুষকে সতর্ক হতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন কোনোভাবেই জমে না থাকে, সেজন্য ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। এছাড়া বাসাবাড়ির ফ্লাওয়ার পট, ড্রেন, পরিত্যক্ত টায়ার বা প্লাস্টিক পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দেওয়া ও পরিষ্কার করা দরকার।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং বাড়িতে বিশ্রাম ও পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন এর পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার ফল মিলছে না বলেই মনে করছেন অনেকে। অনেক এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, তাদের এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত কীটনাশক ছিটানো হয়নি।
সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে শিথিলতা, জনসচেতনতার অভাব ও আবহাওয়াজনিত কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের নিজ উদ্যোগেই সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সামনের দিনগুলোতে যদি এ সংক্রমণের লাগাম না টানা যায়, তাহলে তা ২০২৩ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আগেভাগেই সতর্কতাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।।




