নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাটিক মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে রিপাবলিকান নেতারা হামলা ঢুকিয়েছেন: তারা দাবি করেছেন তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল ও “ম্যাকার্থি-যুগের কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রণ আইন” প্রয়োগ করে তাকে তথাকথিত নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেশে না রাখতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রিপাবলিকান দলের একটি তরুণ শাখা, NY Young Republican Club, সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, “র্যাডিক্যাল জোহরান মামদানিকে আমাদের প্রিয় নিউইয়র্ক শহর ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না।” তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপে আহ্বান জানিয়েছে।

Source: Jugantor | 29 June 2025 | Pic: Collected
তানেসির রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস জোরকরে বলেছেন, “তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া দরকার,” এবং তার নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া উচিৎ, কারণ তিনি “ছোট মুহাম্মদ”, “একজন ইহুদিবিদ্বেষী, সমাজতন্ত্রী, কমিউনিস্ট”, “নিউইয়র্ক শহর ধ্বংসে” দায়ী।
ওগলস ম্যাকার্থি-যুগের কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগে বিচারবহির্ভূত নাগরিকত্ব রদ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার ও বর্ডার চিফ টম হোম্যান–কেও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন । মিলার বলেছেন, “অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ না করলে একটি সমাজে কী ঘটে”—এই যুক্তি তিনি মামদানির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন ।
রিপাবলিকানদের এই আক্রমণের পেছনে রয়েছে ইসলামোফোবিয়া ও রাজনৈতিক হিংস্রতা: ওগলস ‘little muhammad’ বলে তাঁর নামিয়ে উল্লেখ করেছেন—যা সমালোচনায় পড়েছে । ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গঠনতন্ত্র ও ইসলাম বিরোধী এই আক্রমণ “জোহরানকে প্রাণবাদের সেপ্টেম্বর” রূপ দিচ্ছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলছেন—নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া খুব নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতারযোগ্য একটি প্রক্রিয়া। এটি ঘটে শুধু যদি প্রমাণ হয় যে নাগরিকত্ব প্রাপ্তি সময় জালিয়াতি বা গুপ্ত তথ্য ছিল বা সে সশস্ত্র মান্যতা/সহযোগিতা করেছিল কিছু সংস্থার সঙ্গে। এই মানদণ্ড পূরণ না হলে, বাতিলের পথ বন্ধ ।
৩৩ বছর বয়সি মামদানির রাজনৈতিক পরিচয়ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু—তিনি ডেমোক্র্যাটিক সোসালিস্ট, অভিবাসন নীতি সংস্কার চান, কারা ব্যবস্থা প্রত্যাহার চান, ICE নিষিদ্ধ করতে চান । এই রাজনৈতিক স্লোগান রিপাবলিকানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা মনে করেন এটি “দেশের ব্যাপারে চরম পরিবারতন্ত্র ও অল্পসংখ্যক ক্ষমতা” ইঙ্গিত করছে ।
- নাগরিকত্ব বাতিল চ্যালেঞ্জ: রিপাবলিকানরা “দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীন ঘরোয়া সরকারের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারেন” এই উদ্দেশ্যে অস্ত্রোপচার করছে। তবে আইন কঠিন, এবং তারা জনসংখ্যার নৈতিক সমর্থন হারাতে পারেন।
- রাজনৈতিক পুনর্মৈত্রী প্রয়াস: রিপাবলিকানরা সামাজিক মিডিয়ায় জোর করে ধর্মীয় ও মূলধারার ফ্রেম ব্যবহার করছে—যাহা বাছাইকৃত ভোটারদের কাছে আসক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করবে।
- আপত্তিজনক ভাষা: “little muhammad”, “সংখ্যাবাদী, অ-স্বীকৃত” ধরণের মন্তব্যগুলো ধর্মীয় অপমান ও বিদ্বেষকে স্পষ্ট করছে, যা পরবর্তী সময়ের নির্বাচনে ভাষার হিংসা রূপে অবতরণ হতে পারে।
রেপাবলিকানদের এই দপ্তরীয় আক্রমণ মূলত নির্বাচনী ট্যাকটিক—তবে তা প্রমাণের মতো আহামরি ভিত্তিহীন, ধর্মীয় বিদ্বেষে ভরা, এবং নাগরিকত্ব আইনও তাদের পক্ষেই কাজ করছে না। মামলা অবলম্বনে বিষয়গুলো প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে, রাজনৈতিক ভাবে এটি বড় ক্ষতি করতে পারে রিপাবলিকানদের জীবনভর। তবে বর্তমানে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে ভাবাচ্ছে শক্ত হওয়ার আহ্বান দিয়ে, আর পরিস্থিতি দ্রুত নির্বাচনী দ্বন্ধে পার পড়ছে।




