রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ আবু সাঈদের হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সোমবার (৩০ জুন) সাবেক প্রক্টরসহ ৩০ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ফরমাল চার্জশিট পেশ করেন; বেলা ১১:৩০টায় এ অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি হবে। এই মামলা “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”–এর আলোচিত পর্বের অংশ—সেই অভ্যুত্থানের সময় ১৬–১৭ জুলাই ২০২৪ রংপুরে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ ও দেশের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষে আবু সাঈদ নিহত হন।

Source: Jugantor | 30 June 2025 | Pic: Collected
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরাসরি গুলিবর্ষণে তার মৃত্যু ঘটায় সাবেক এসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়–সহ আরও অনেকে সহায়তা ও উসকানি প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্র্যাক্টর শরিফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান চৌধুরী আকাশ–সহ প্রাথমিক চার আসামি ইতিমধ্যেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার।
১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল শহরের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম নির্দেশ দেন ১৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের, এবং একই সঙ্গে ২৬ জুন শুনানি নির্ধারণ করেন। এর আগে ৯ এপ্রিল আসামিগণের হাজিরা আদেশ রয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আক্রান্ত অবস্থায় দুই হাত ওপরে তুলে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে রোদ্দুরে গুলি করা হয়; সেই ঘটনা ধারণকৃত ভিডিও পরে ভাইরাল হলে দেশের বিভন্ন স্থানে “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি পালিত হয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট বর্তমান সরকার পতনের পর্যায়ে পৌঁছায়। সরকারি হিসাবে আন্দোলনের परिणিতে প্রায় ৮৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র দাখিলের এ পর্যায় ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনসহ ছাত্র-রাজনৈতিক মহল থেকে স্বাগত ও সমর্থন এসেছে, যদিও আইনগত বিশ্বে বিষয়টি সমালোচনাও রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত রায় দিয়ে যারা ঘটনা সংঘটিতের ক্ষেত্রে দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব বেড়ে উঠেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের সঙ্গে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা আগামী শুনানি ও বিচারে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।




