তুর্কিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে প্রকাশিত এক কার্টুনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন ‘লেম্যান’-এর অফিসের বাইরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে ‘রক্তের বিনিময়ে রক্ত’, ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তুর্কির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া লেম্যান ম্যাগাজিনের ওই প্রকাশিত কার্টুনকে “লজ্জাজনক” বলে নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক, গ্রাফিক ডিজাইনার, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালক ও কার্টুনিস্টসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।

Source: Online Report | 1 July 2025 | Pic: Collected
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এ ঘটনার পর থেকে তুর্কির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হয়েছে। ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভকারীরা লেম্যান ম্যাগাজিনের অফিসের সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় কর্তৃপক্ষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
তুর্কির বিচারমন্ত্রী ইলমাজ টুনক এক্সে এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের নবীর ব্যঙ্গচিত্র বা অন্য কোনো প্রকার অবমাননাকর প্রকাশ কেবল আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি সামাজিক শান্তিকেও বিপন্ন করে।” তিনি জানান, প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
লেম্যান ম্যাগাজিনের কার্টুনটিতে একটি অবরুদ্ধ শহরের আকাশে দুটি ডানাওয়ালা চরিত্র ভাসছে, যেখানে একজন বলে, “তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমি মুহাম্মদ”, আর অন্যজন বলে, “তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমি মুসা।” তবে ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক টুনকে আকগুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই কাজটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কখনও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ছিল না। তারা জানায়, কার্টুনটি নবীজিকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করা হয়নি।
২০১৫ সালে ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় তুর্কি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনের ঘটনা এখনও স্মরণীয় এবং এতে শার্লি হেবদোর অফিসে হামলা চালিয়ে ১২ জন নিহত হন।
বর্তমান ঘটনার ফলে তুর্কিতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির প্রশাসন কড়া মনোযোগ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই বিতর্ক তুর্কির সাম্প্রদায়িক সংহতি ও সামাজিক শান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




