নিউইয়র্ক থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন কারামুক্ত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল। খলিলের আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার ফেডারেল টর্ট ক্লেইমস অ্যাক্টের আওতায় এই আবেদন করেছেন। তাদের মতে, খলিলকে ভুলভাবে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল এবং তাকে বিদ্বেষপরায়ণ বিচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

11 July 2025 | Pic: Collected
খলিল, যিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ৩০ বছর বয়সী এক গ্র্যাজুয়েট, ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনি-পন্থী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নজরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়িয়েছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন অভিযোগ আরোপের মাধ্যমে সরকার তাকে অবাঞ্ছিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিতাড়নের চেষ্টা চালায়।
আইনজীবীরা জানান, এই আবেদনটিতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টকে দায়ী করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান বিতাড়নের মামলা ধীরগতিতে চলার মধ্যেই এই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে, যা খলিলের পরিবারের উপর পারিবারিক ও সামাজিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করেন।
খলিল নিজে বলেন, তার উদ্দেশ্য হলো তাকে ভীতিপ্রদর্শন করে নীরব করা যাবে না, বরং তাদের এই ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “তারা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করে এবং তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। যদি এই জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে তাদের কর্মকাণ্ড বাধাহীনভাবে চলতে থাকবে।”
আবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে এবং তার পরিবারকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালিয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইনজীবীরা দাবি করছেন, এই ধরনের দমননীতি এবং ব্যক্তিগত হামলা মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক এবং এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
মাহমুদ খলিলের মামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মামলার ফলাফল শুধু খলিলের জন্য নয়, বরং সমস্ত আন্দোলনকারী এবং বিক্ষোভকারী অধিকারপন্থীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে মামলার বিস্তারিত শুনানি এবং ক্ষতিপূরণ আবেদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। খলিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই লড়াই অব্যাহত রাখবেন যাতে সত্য বিচার এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।




