ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা একটি মাইলফলক ছুঁইয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) কমিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্স জানায়, এমন একটি পরবর্তী চুক্তি (interim trade deal) কার্যকর হলে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক ২০%-এর নিচে নেমে আসতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভারতকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দেবে ।

12 July 2025 | Pic: Collected
আগামী ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের উপর ২৬% পর্যন্ত ‘reciprocal tariff’ কার্যকর করতে পারে, তবে ভারতের কথা ভিন্ন: এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প কোনও শুল্ক চিঠি পাঠাননি, এবং অনুমান করা হচ্ছে চুক্তি একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে ।
পুনর্বিবেচনা করতে পারে এমন এই ইন্টারিম ডিল কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র আগাম আলোচনার সুযোগ রাখবে, এবং অনেক জটিল বিষয় যেমন এগ্রিকালচার, অটোমোবাইল, অটোমেটিভ পার্টস ইত্যাদি পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে ।
সূত্র মতে, ভারতের প্রধান দর কষাকষি প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা রাজেশ আগরওয়াল, ইতিমধ্যে কলকাতা সংলাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ সচিব হিসেবেও কাজ করছেন । তিনি জানিয়েছেন, তারা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ব্যাপক চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর আগে একটি অংশীদারি চুক্তি (phase‑one deal) প্রাথমিকভাবে পণ্য ভিত্তিক হতে পারে, সেবাসহ বড় ইস্যুগুলো পরে ছেড়ে দেওয়া হবে ।
আগামী ৯ জুলাই ২০২৫ এর মধ্যে এই অ-চূড়ান্ত ট্রেড ডিল ঘোষণার অভিপ্রায় ছিল, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুরুর ৯০ দিনের মুলতুবি শেষে আগস্ট ১ তারিখে শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়েছিল । যদিও তার তারিখ কিছুটা অফাড়ানো হয়েছে, ভারত এখনও পর্যন্ত শুল্ক চিঠি না পেয়েই এগিয়ে এসেছে, যা কূটনৈতিক সফলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ।
এই সময় উদ্ভূত Liberation Day tariffs নামে পরিচিত মার্কিন প্রধান শুল্কনীতি অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের উপর ১০%-এর বেসলাইন টারিফ এবং ২৬‑৫০% পর্যন্ত reciprocal tariffs কার্যকর করা হয়েছে, তবে ভারত-যুক্ত চুক্তির মাধ্যমে ২০% অতিক্রম না করার পথ খোলা হচ্ছে, যা ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সুবিধা জোগাবে ।
বর্তমানে ଶার্ট ডেটেড Agricultural ও Industrial পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুবিধা বাড়ানো, শুল্ক ও নন-টারিফ বাধা কমিয়ে দেওয়া, এবং আমদানি-রপ্তানি অবাধে সহজ করতে আলোচনার দৃঢ় প্রচেষ্টা চলছে । তবে এখনও আরো বিশদ চুক্তি সম্পন্ন হলে তা হবে দুই দেশের জন্য বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য, যা দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী বছরগুলিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সত্যিকার ‘Mission 500’ পৌঁছতে সহায়তা করবে ।



