ঢাকা‑কাঠমান্ডু রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG‑373 শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত নম্বরের এক ফোনকল থেকে “বিমানে বোমা রয়েছে” এমন ভুয়া সংকেত পাওয়ায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তিন ঘণ্টার তল্লাশির পর কোনো বোমা বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, এই বোমা হুমকির মূল উদ্দেশ্য ছিল ছেলের পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে যাত্রা ঠেকানো—কারণ তার বাবা-মা ও স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারেন।

12 July 2025 | Pic: Collected
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানান, ছেলে যিনি কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন, তার নাম ইমন এবং তার প্রেমিকা ছিলেন তিনি সঙ্গে। ইমনের স্ত্রী ও মা বিষয়টি জানতে পারার পর তার এক বন্ধুর পরামর্শে মা ফোন করে বোমা হুমকি দিয়ে ফ্লাইট আটকে দেন যাতে ছেলে কাঠমান্ডু যেতে না পারে। বুধবারের ট্র্যাজেডিটি সম্পর্কে র্যাব জানায়, মা, স্ত্রী ও বন্ধুকে জড়িত করে ফোনটি করা হয় এবং তারা এখনো তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে। RAB-ওয়ালা উল্লেখ করেন, উত্তরা ও দক্ষিণখানে অভিযান চালিয়ে মা—রাশেদা বেগম, স্ত্রী—তাহমিনা ও এক বন্ধু—ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অপারেশনে নম্বর ট্র্যাক হবার পর ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে এবং তারা আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করবেন। ასევე উল্লেখ করা হয় যে, এ ধরনের মিথ্যা হুমকি দেশের বিমানের নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে, তাই ভবিষ্যতে যুক্তিহীন হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফ্লাইটটি প্রথমে বাতিল করা হয়েও পরে রাতেই বোয়িং ৭৩৭–৮০০ উড়োজাহাজ থেকে গন্তব্যে পাঠানো হয়, যখন নিশ্চিত হয় যে বিমানে কোনো ভয়াবহ কিছু নেই। এই ঘটনাটি বলছে যেকোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিবাদের জন্য বিমানবন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করলে তা শুধু আইনি নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও তোলাতে পারে।




