নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাফল্যের পর তরুণ অ্যাসেম্বলি ম্যান জোরান মামদানির জয় রুখতে প্রবল প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো। মামদানিকে এখন শুধু বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস নয়, কুওমোর মতো প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে। মামদানির বিরুদ্ধে একটি বড় কৌশল অনুসরণ করে কুওমো স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের এক ছাতার নিচে এনে ভোট বিভাজন রোধ করতে চাইছেন। এই কৌশলে যে কোনো মূল্যবোধের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক স্বার্থে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে একাত্মতা গড়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

14 July 2025 | Pic: Collected
এবিসি৭ এনওয়াই ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুওমো ও তার সমর্থকরা পরিকল্পনা করছেন, চূড়ান্ত নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী হিসেবে যিনি উঠবেন, বাকিরা তাঁকে সমর্থন দিয়ে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগি রোধ করবেন। প্রাথমিক ভোটে মামদানিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে এই প্রক্রিয়ায় তার জয় রোধের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন কুওমো। সাবেক গভর্নরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করে নিউ ইয়র্কের মানুষের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”
মেয়র এরিক অ্যাডামস অবশ্য কুওমোর এই পদক্ষেপকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি কুওমোর গভর্নর পদে থাকার সময়ের নানা ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “কুওমো নিউ ইয়র্কবাসীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ত্রুটিপূর্ণ জামিন সংস্কারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং কোভিডের সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা দিতে পারেননি।” এরিক অ্যাডামসের কথায়, “আজও তিনি নিউ ইয়র্কবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ রয়েছেন।”
মামদানির এক প্রতিদ্বন্দ্বী, রিপাবলিকান কার্টিস স্লিউয়া এবিসি৭ কে জানিয়েছেন, ভোট ভাগাভাগির মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার মতো প্রস্তাবনায় তিনি অংশ নিতে আগ্রহী নন এবং এ ধরনের পদ্ধতি বিরোধী। তবে কুওমোর এই নতুন কৌশল রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মতো একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়র পদের জন্য এই ধরনের জোটবদ্ধ কৌশল নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়া ব্যক্তিই সাধারণত শেষ নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই মামদানির জয় অনেকের কাছে প্রায় নিশ্চিত মনে হলেও কুওমোর উদ্যোগ নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া চূড়ান্ত নির্বাচনে এই ভোট ভাগাভাগির কৌশল বাস্তবায়িত হলে, সেটা নাকি সবাই সম্মান করবে এবং বিরোধীদের একত্রিত করে ভোট বিভাজনের প্রতিহত করার জন্য কাজ করবে—এই পরিকল্পনা রাজনৈতিক মহলে চরম সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।




