২১ আগস্ট ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঘটানো গ্রেনেড হামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাস কার্যকর হওয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ আপিল বিভাগে আপিল করেন, এবং ৪ জুলাই ২০২৫ বুধবারের দিন তা শুনানির উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমদের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে, যা মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জানায় Observerbd ও The Business Standard। ১ জুন আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে হাইকোর্টের খালাস রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ মঞ্জুর করেছেন ।

15 July 2025 | Pic: Collected
এই মামলায় ট্রায়াল কোর্ট ২০১৮ সালে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ও আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। তবে ১ ডিসেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট বেঞ্চ—বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও সৈয়দ এনায়েত হোসেন—এই রায় নামঞ্জুর করে সব আসামিকে খালাস দেন। এছাড়াও ডেথ রেফারেন্স খারিজ করেন এবং অ্যাক্সিডেন্ট অপরাধে বিরুদ্ধ রায় বাতিল করেন । হাইকোর্ট রায়ে হামলাটিকে দেশ ইতিহাসের “সর্বাধিক বিদ্বেষপূর্ণ ও দুঃখজনক” ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে, পুনঃতদন্ত ও স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের সুপারিশ করে ।
বিচারের শুনানিতে রাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত থাকবেন এবং আসামিদের পক্ষে বিরোধীদলীয় সিনিয়র আইনজীবীরা, যেমন—ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ আদালতে ভর্ত্বী রয়েছেন। শুনানির জন্য দ্রুত কার্যক্রম চাইতে জয়নুল আবেদীন আবেদন করেন এবং বিভাগ ১৭ জুলাই শুনানির দিন ঠিক করেন ।
এই শুনানি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একটি রাষ্ট্রীয় আপিল—হাইকোর্টের রায়ের পরিবর্তন ও বিচার কাঠামোর স্বচ্ছতা পুনঃনির্ধারণের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আসামিদের খালাস বাতিল, আবার দোষী সাব্যস্ত হলে পুনরায় সাজা কার্যকরণের সম্ভাবনা উভয়ই থাকতে পারে।




