ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা নাম না করেই মোদি সরকারের দিকে তীর ছুঁড়ে বলেন, “ভারত সরকার কয়েকজন অতিথিকে আশ্রয় দিয়েছে। আমি কি তাদের আটকে দিয়েছি? দিইনি। কারণ, এতে রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে।”

18 July 2025 | Pic: Collected
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুই বাংলাতেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই ইঙ্গিত বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের উদ্দেশ্যেই, যারা সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও আশেপাশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন চলছে।
মমতা বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে বা ভারতের অন্য কোনও স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে—এই জন্যই ভারত সরকার কিছু মানুষকে ‘অতিথি’ হিসেবে রেখেছে। এ নিয়ে তো আমরা কিছু বলিনি! তাহলে বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা কেন দেওয়া হচ্ছে?”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের রোহিঙ্গা বলা হচ্ছে। তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা অন্যায়! একজন ভারতীয় দেশের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারেন—সে উত্তরপ্রদেশ হোক বা দিল্লি।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির ফলে যে সমস্ত উদ্বাস্তুরা ভারতে এসেছিলেন, তাঁরা সকলেই ভারতের নাগরিক। তিনি বলেন, “এখন বলা হচ্ছে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই রিপোর্ট করতে হবে! ওরা জানে না, বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে পঞ্চম।”
মমতা তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, “পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বহু মানুষ দেশভাগের আগে বা ১৯৭১ সালের আগেই ভারতে এসেছেন। তাঁদের ভাষায় বাংলাদেশি টান থাকতেই পারে, কারণ তাঁদের পূর্বপুরুষ ওপার বাংলার মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাই বলে তাঁরা বাংলাদেশি নয়। তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক।”
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “বাংলায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশি হওয়া যায়, তাহলে কলকাতায় থাকা কিছু বাংলাদেশিকে ভারত সরকার কেন অতিথি বানাল? আমরা তো পশ্চিমবঙ্গ সরকার হিসেবে কোনো বাধা দিইনি।”
এই বক্তব্যে ভারতীয় রাজনীতির ভেতরের কিছু জটিল বাস্তবতা সামনে চলে এসেছে। বিশেষত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই বক্তব্যে মমতা শুধু দিল্লির নীতির সমালোচনাই করেননি, বরং বাংলা ভাষাভাষীদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নও তুলে ধরেছেন।



