বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) তিন বছরের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে ঢাকা শহরে একটি UN হিউম্যান রাইটস মিশন অফিস চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে । এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, আইনি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করা, যাতে বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা পূরণে সক্ষম হয় ।

19 July 2025 | Pic: Collected
সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কার ও জবাবদিহলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে কোনো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মানজনক হতে হবে, এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্য হলে সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সার্বভৌম অধিকার সংরক্ষণ রাখে।
এই সিদ্ধান্ত Advisory Council-এর বৈঠকে ২৯ জুন নীতি অনুযায়ী অনুমোদিত হয়, যার পর জুন শেষে MoU এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয় ও শিগগিরই চূড়ান্ত স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় । সংস্থার UN মানবাধিকার প্রধান Volker Türk স্বাক্ষর করেন এবং বাংলাদেশের বিদেশসচিব Asad Alam Siam সরকারপক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন ।
তবে, এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে হেফাজত-এ-ইসলাম ও কিছু রাজনৈতিক দল কঠোর বিরোধিতা জানিয়েছে, তাদের দাবি—এই অফিস ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এবং দেশীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করতে পারে ।
মিশনটির কাঠামো গতিরূপে পরিকল্পিত: প্রথমে তিন বছরের স্বল্প মেয়াদি ম্যান্ডেট এবং দুই বছর পর পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নযোগ্য, যেন এটি বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইন ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় r। এছাড়াও OHCHR Fact‑finding রিপোর্টে উল্লিখিত ‘July Uprising’–এর হত্যাকাণ্ড ও নিগ্রহ নিয়ে অনুসন্ধান ও সুপারিশ বাস্তবায়নেও মিশন অবদান রাখতে পারে ।
এই কার্যালয় চালু হলে এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করে স্থানীয়ভাবে স্বচ্ছ নীতি, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোন অপরানো সামাজিক এজেন্ডার প্রচারে ব্যবহার হবে না, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবাধিকার কাঠামো স্থাপনে সাহায্য করবে ।




