নতুন প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যৌন নিপীড়ন এবং শিশু পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টিনের মামলার গোপন নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম একাধিকবার উঠে আসায়, চলতি বছরের মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি তাকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন। ওই সময় হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ট্রাম্পকে এ সতর্কবার্তা দেন বন্ডি ও তার ডেপুটি টড ব্লানশ। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ জুলাই শিশুদের যৌন কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিন।

24 July 2025 | Pic: Collected
এক মাসের মাথায় তিনি নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়। তার মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন এবং বিতর্কের জন্ম হয়। ট্রাম্প ও এপস্টিনের মধ্যে অতীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত মেলে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে তাদের একসঙ্গে বিভিন্ন পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এপস্টিনের নথিতে ট্রাম্প ছাড়াও আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। এ কারণেই অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডি ট্রাম্পকে জানান যে, বিষয়টি জনসম্মুখে এলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন সতর্কতার পর গত ৮ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডি হঠাৎ করে ঘোষণা দেন যে, নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না। এ ঘোষণায় এপস্টিন মামলার স্বচ্ছতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আরও জোরালো হয়। এদিকে, এই মামলার গ্র্যান্ড জুরি নথি প্রকাশ চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) যে আবেদন করেছিল তা সম্প্রতি খারিজ করে দেন ফ্লোরিডার ফেডারেল বিচারক রবিন রোজেনবার্গ। বিচারক মন্তব্য করেন, DOJ-এর আবেদন বিচার প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে যথাযথ নয়। সিএনএন-এর বিশ্লেষক এভান পেরেজ বলেন, “এই নথি এখনই প্রকাশ করা আইনগতভাবে উপযুক্ত নয়।” পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠায় এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটি।
আগামী ১১ আগস্ট টালাহাসির একটি ফেডারেল কারাগারে তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস কুন এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, “যেহেতু ট্রাম্পের নাম রয়েছে, তাই গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সাক্ষ্যগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে গিলেইনের সাক্ষ্যের প্রতিলিপি প্রকাশ করাও জরুরি। সব মিলিয়ে, এপস্টিন মামলায় ট্রাম্পের নাম উঠে আসা এবং নথি গোপন রাখার সিদ্ধান্তে আবারও আলোচনায় এসেছে এই বিতর্কিত ইস্যু, যা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।




