যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর ভূমিকা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুটি ফেডারেল ভবনের সংস্কারকাজ পরিদর্শনের সময় তিনি সরাসরি রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের উপর চাপ প্রয়োগ করেন সুদের হার কমানোর জন্য। ২.৫ বিলিয়ন ডলার খরচে এই ভবন সংস্কারকে ঘিরে চলমান সমালোচনার মধ্যে প্রেসিডেন্টের এই সফর এবং বক্তব্য নতুন মাত্রা এনেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি তার কাছ থেকে সুদের হার কমানো দেখতে চাই”—এই মন্তব্যের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনুভূতিহীন পাওয়েল।

25 July 2025 | Pic: Collected
যদিও ট্রাম্প অনেকবারই সুদ কমানোর দাবি করে এসেছেন এবং একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি পাওয়েলকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে চান, তবে এ সফরে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, পাওয়েলকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনা তার নেই। উল্লেখ্য, আগামী সপ্তাহেই ফেডারেল রিজার্ভের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট নীতিনির্ধারণী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সুদের হার চার দশমিক ২৫ থেকে চার দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প এই হার তিন শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পক্ষে, কারণ তিনি মনে করেন উচ্চ সুদের হার অর্থনীতির গতি রোধ করছে।
২০১৮ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই পাওয়েলকে ফেডারেল চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, এবং পরবর্তীতে জো বাইডেন তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে বহাল রাখেন। জানা যায়, সুদহার নির্ধারণী বৈঠকের আগের বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেড ব্যাংক প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে কল করে প্রস্তুতি নেন পাওয়েল, যা তার নিয়মিত কার্যপ্রণালী। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউস থেকে চাপের মাত্রা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেল রিজার্ভের স্বায়ত্তশাসন, ভবিষ্যৎ সুদনীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও ট্রাম্প এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে সক্রিয় নন, তবে তার অর্থনৈতিক নীতি ও প্রকাশ্য বার্তা স্পষ্টতই ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্সি নির্বাচনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



