নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে ব্রঙ্কস পার্কচেস্টার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় কালো শোকের ছায়া নেমে আসে—সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত দিদারুল ইসলাম, যারা NYPD‑এর পরিচ্ছলী অফিসার ছিলেন, সেসময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে। জানাজায় যোগ দিয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া এক বক্তৃতা দেন NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ। তিনি মর্মাহত কণ্ঠে বলেন, “তিনি শুধু মানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষায় আত্মদান করেননি, নিজের দুই সন্তান ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গেলেন” ।

1 August 2025 | Pic: Collected
জানাজায় উপস্থিত হন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস ও নিউ ইয়র্ক-এর গভর্নর ক্যাথি হোকুল। মেয়র অ্যাডামস আবেগঘন কণ্ঠে ব্যক্ত করেন, দিদারুলের বাবা যখন মার্চে তার জন্মলগ্ন স্মরণ করেন, তখন নিজের সন্তানের অভিজ্ঞতা মনে পড়ে—পিতার কাঁধে সন্তানের হাত—এই সম্পর্কেই মানবিক বেদনা ও করুণা ফুটে ওঠে । তিনি বলেন, “সন্তানকে’ কবর দিতে বসে থাকা কোনো পিতার জন্য সবচেয়ে করুণ বিষয়।”
ওই মসজিদের ইতিহাসে এটি হয়েছিল সর্ববৃহৎ জানাজা—NYC পুলিশের হাজারো সদস্য, স্থানীয় কমিউনিটি ও উৎসর্গীকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। জানাজার পূর্বে দিদারুলের আক্রান্ত বাবাকে গভর্নর হোকুল সহানুভূতি জানান, আর মেয়র অ্যাডামস পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দিদারুল প্রসঙ্গেই কমিশনার টিশ বলেন, “উনি হয়েছিল আমাদের ভাই, আমাদের পরিবারের সদস্য; আজ নিউ ইয়োর্কের হৃদয় বিষণ্ণ”। তিনি পোস্টহিউমাসলি দিদারুলকে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে সম্মান জানানk।
দিদারুলের জীবনধারা ও কর্মদিবস সম্পর্কে মেয়র অ্যাডামস বলেন, তিনি ব্রঙ্কসে ৪৭তম প্রিসিংটে রাতে সূর্য অস্তময়ের পরও চাক্কর রেখে দ্বিতীয় চাকরি করতেন। দিদারুল বিশ্বাস করতেন—একজন পুলিশ কর্মী যতটা দেশের সেবা দেয়, ততটাই সম্প্রদায়ের কাছে উপকারী হয়ে ওঠে।
মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় ড. জাকির আহমেদ ইমামতি করেন। এর পর তার পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনরা তাকে দোয়া ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানান। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ছেড়ে যাচ্ছে—তৃতীয় সন্তান সম্ভবা, যেটা সম্প্রতি পরিবারের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করেছিল।
দিদারুল ছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একজন প্রিয় ব্যক্তি—সে গল্পে উৎসর্গ, সম্প্রদায়-নেতৃত্ব ও বিশ্বাসের শক্তি ফুটে ওঠে। মেয়র অ্যাডামস বলেন, “দিদারুল ইসলাম নিউ ইয়র্কের মানসিকতার প্রতীক ছিল—ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক উৎস থেকে এসেও শিক্ষক, পুলিশ, বাবা, পরিবারপ্রেমী হয়ে ওঠা”।
সংক্ষিপ্ত বলা যায়, দিদারুল ইসলাম নিজের ফ্যামিলি, সম্প্রদায় এবং নিউ ইয়র্ক সিটির প্রতি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন—আজ তার মৃত্যু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি না হয়ে বরং শহরের সম্মান ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার জীবন ও আত্মত্যাগ মার্কিন পুলিশ ইতিহাসে এক “অমোচনীয় দাগ” হয়ে থাকবে, এবং তার পরিবার ও সহকর্মীরা সেই উত্তরাধিকার বহন করবে।




