সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের বাছাইকৃত ক্যাডারদের প্রশিক্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদেকুল হক সাদেক-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীতে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন—এ তথ্য জানা গেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ও যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ।

1 August 2025 | Pic: Collected
ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার্স মেসে অনুষ্ঠিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে, সেনাবাহিনীর সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম‑উদ‑দৌলা বলেন, “মেজর সাদেক সন্দেহভাজন হওয়ায় তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার দোষ প্রমাণ হলে সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ব্রিফিংয়ে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ সম্পর্কে সেনাবাহিনী অজ্ঞাত নয়, জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে তদন্ত করা হবে ।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুর, ভাটারা, কাটাবন ও পূর্বাচল এলাকায় প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন প্রশিক্ষণ কর্মশালায়। গত ৮ জুলাই ভাটারা থানার একটি কনভেনশন সেন্টারে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণে দুই দিন আগে টোকেন প্রদান করা হয়। মেজর সাদেক নিজেই এই প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন বলে দাবি করা হয়েছে ।
সম্প্রতি উঠে এসেছে—সাদেক কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। গোপন গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, তার স্ত্রী এএসপি সুমাইয়া জাফরিন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তারা শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপনা করেন। আরো অভিযোগ আছে—এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান কলকাতায় করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের সহায়তায়। পাশাপাশি যুক্ত রয়েছে দিল্লিতে অবস্থানকারী পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান ।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর থেকে আসা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—এই ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার দাবি করা হয়েছে ।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, যা তদন্তাধীন থাকায় এখনই বিচারিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা দল আশাপ্রকাশ করেন—সত্য উদঘাটন ও দোষীদের নিয়মানুসারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় কর্মচারী তথা সামরিক কর্মকর্তা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার প্রভাব ও ফলাফল জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানীয় অখণ্ডতাকে প্রভাবিত করতে পারে।




