রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে অবস্থিত Krasheninnikov আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৬০০ বছর পর রাতে আচমকা ফেঁসে উঠল—জাপসি ভূমিকম্পের পর। গত ৩ আগস্ট স্থানীয় সময় ভোরে গিরিখাঁড়া থেকে ৩.৭‑৪ মাইল (৬ কিমি) উঁচু ছাইস্তম্ভ উড়তে দেখা যায়, যা নিয়ন্ত্রণ এলাকা ছাড়িয়ে অনেক দূর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ছড়িয়ে যায়—তবে কোনো জনবসতী এলাকায় ছাই পড়েনি বলে স্থানীয় জরুরি সেবা নিশ্চিত করেছে।

এই অগ্ন্যুৎপাতটি ঘটে বৃহৎ ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের মাত্র কয়েক দিন পর, যা আগামী জুলাই ২৯‑এ রাশিয়ার দূর পূর্ব সাগরে রেকর্ড করা হয়—এটি এই শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে গণ্য। ঐ ভূমিকম্পে সমুদ্রপৃষ্ঠে ক্ষুদ্রতর সুনামির সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি; তবে ইতিমধ্যে Kamchatka ও Kuril Islands-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তি এখন থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
Kamchatka Volcanic Eruption Response Team (KVERT) এর প্রধান Olga Girina জানান, “Krasheninnikov gירিখাঁড়ার পশ্চিম দিক থেকে আগ্নেয়গিরির গ্যাস ও ছাই নির্গমনের শুনতে পাওয়া গেছে” এবং এটি প্রথম দস্তাবেজভিত্তিক সক্রিয়তা যা ১৪৬৩ সালের পর হয়নি। Smithsonian Volcanism Program অনুসারে আগ্নেয়গিরিটির শেষ প্রচলিত উদ্দীপনা ছিল প্রায় ১৫৫০ সালে, যার ফলে পাঠ্য নির্ভুলতার ব্যবধান প্রায় ৪৭৫ বছর হিসেবে ধরা হয় ।
ঘটনাটি ছোট পরিসরে হলেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি রাশিয়ার উত্তরের হেমিস্ফিয়ারের সর্ববৃহৎ। ইতিহাসবিদরা মনে করছেন—এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাত পরবর্তী সময়ে ছোট ভূমিকম্প ও ছাই নির্গমনের পর মাঝারি স্তরের বিস্ফোরণও হতে পারে ।
Krasheninnikov Vulkanএর উচ্চতা ১,৮৫৬ মিটার এবং এটি Kronotsky Nature Reserve-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে geyser valley, উঁচু বন্যা এলাকাসহ সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীকেন্দ্র রয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, এখন পর্যন্ত এলাকাটি মানুষের যোগাযোগহীন—কোনো নিয়ন্ত্রিত জনবসতী আক্রান্ত হয়নি। তবে স্থানীয় গবেষকরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং গতকালই গবেষক কর্মীরা নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ।
আগ্নেয়গিরির orange aviation alert জারি করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে—উঁচু ছাই ও গ্যাসের পরিমাণ বিমান চলাচলের জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন-উচ্চতায় উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। KVERT জানায়—modest বা moderate explosive activity কিছু সময় ধরে চলতে পারে ।
আল জাজিরা ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়—এই ঘটনা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির একটি geophysical coupling নির্দেশ করে, যেখানে বৃহৎ ভূমিকম্পের ফলে মাটি থেকে magma পথ খুলে গিয়ে আগ্নেয়গিরির মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেটিই eruption‑এর কারণ হতে পারে ।
বিশ্লেষকদের মতে, তবে পরবর্তী কয়েকদিন বা সপ্তাহে আগ্নেয়গিরির আশেপাশে পরালোক (ashfall), গ্যাস নির্গমন বা ছোট ক্ষুদ্র ভূমিকম্প হতে পারে। স্থানীয় সরকার ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সতর্ক নজরে রাখছে, এবং অপর প্রাকৃতিক বিপদ দেখা দিলে তা সময়মতো জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




