গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন আল-জাজিরার তরুণ সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ (২৮)। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত একটি পোস্টে তিনি নিজের “শেষ ইচ্ছাপত্র” লেখা শেয়ার করেন, যেখানে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো নিয়েও প্রতীক্ষিত সংগ্রামের কথা স্মরণ করেছেন।

11 August 2025 | Pic: Collected
পোস্টে তিনি লিখেন, “আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছি শরণার্থী শিবিরে তাঁদের কণ্ঠস্বর হতে; যদি আমার কথাগুলো কখনো পৌঁছায়, তবে জানিয়ে রাখা—ইসরায়েল আমাকে হত্যা করতে ও আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে সফল হয়েছে।” তিনি তার পরিবারের—বিশেষ করে মেয়ে, ছেলে, স্ত্রী ও মায়ের কথা তুলে ধরেন, যারা তার মৃত্যুর পর জীবন চালিয়ে যাবে; এবং গাজা ও নিজেকে ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, “আমি সত্যকে বিকৃত না করেই বলতে পারি যে, যারা নীরব থেকেছে, যারা আমাদের হত্যাকে মেনে নিয়েছে, তারা ইতিহাসে সাক্ষী থাকবে”। তাঁর এই বিদায়ের বার্তায় একজন সহকর্মী, সংবাদ সম্প্রচারের সময় চোখের জল সামলাতে দৃশ্যমান হন। এই হামলায় আরও নিহত হয়েছেন আল-জাজিরার চারজন সাংবাদিক—মোহাম্মদ ক্রিকেহ, ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের, মোমেন আলিওয়া ও মোহাম্মদ নৌফাল।
পরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে যে আল-শরীফ হামাসের একটি সন্ত্রাসী সেলের প্রধান ছিলেন; তবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। আল-শরীফের শেষ বার্তায় মানবতার মেজাজ ফুটে ওঠে—যে কণ্ঠস্বর নিঃশব্দ হলে, সত্য বন্ধ হয়ে গেলে সেটাই প্রকৃত শাস্তি। তাঁর বিদায়বাণী আজও অম্লান অনুপ্রেরণা হিসেবে আঁকড়ে আছে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার প্রেমীদের হৃদয়ে।




