মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে প্রকাশ করেছেন এক চরম রাজনৈতিক প্রস্তাব, যা ইউক্রেনের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন যদি চান, তাহলে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ “প্রায় সঙ্গে সঙ্গে” শেষ করা সম্ভব। তবে যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য তিনি দুটি শর্ত রেখেছেন: প্রথমত, ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, এবং দ্বিতীয়ত, ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিশেষ করে ইউক্রেনের সরকার ও পশ্চিমা সমর্থক দেশগুলোতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়া অধিকার করেছে, এবং ইউক্রেন ও পশ্চিমা জোট তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের মতে, এই দুটি শর্ত মেনে নিলে যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত হতে পারে এবং ইউক্রেন নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেতে পারে।

18 August 2025 | Pic: Collected
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, “শান্তি স্থায়ী হতে হবে এবং তা সম্মানজনক হতে হবে।” জেলেনস্কি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধারই অগ্রাধিকার এবং ন্যাটোতে যোগদান ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করেছেন যে কোনো ভূমি ছাড়ের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়া নেওয়া যাবে না। তারা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে কার্যকর নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে চান, যাতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অক্ষত থাকে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা শান্তি চায়, তবে ন্যাটো সম্প্রসারণে তাদের নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক, কারণ এটি ইউক্রেনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করতে পারে এবং পশ্চিমা জোটের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। অনেক বিশ্লেষক এটিকে মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ট্রাম্প তার শক্তি ও প্রভাব প্রমাণ করতে চাইছেন। হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক সামনে রেখে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা সর্তক অবস্থান নিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বলেছেন যে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যাটো সমর্থন রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রিমিয়া নিয়ে কোনো সমঝোতা না হলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে, এবং ট্রাম্পের প্রস্তাব কেবল রাজনৈতিক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে, কিন্তু বাস্তব অবস্থার পরিবর্তন আনবে না। ট্রাম্পের শর্তগুলো যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা রাশিয়ার কাছে রাজনৈতিক জয় হিসেবে গণ্য হবে এবং ইউক্রেনের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে বিপুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্বমঞ্চে এই প্রস্তাবের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ইউক্রেন–রাশিয়া দ্বন্দ্বের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেনের জনগণ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমর্থক দেশগুলো সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। হোয়াইট হাউস বৈঠক শেষে মার্কিন, ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ জানাতে পারেন, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং কূটনীতিকরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে উল্লেখ করছেন, কারণ এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, ন্যাটো সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা বলছেন, “আমরা আমাদের দেশের নিরাপত্তা, জনগণের জীবন ও আন্তর্জাতিক সমঝোতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে কাজ করব।” অন্যদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছে যে, তারা শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে আগ্রহী, তবে ন্যাটো সম্প্রসারণ রোধ করা হবে। হোয়াইট হাউস বৈঠক পরবর্তী সময়ে এই কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক আরো বেড়ে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, রাশিয়ার নিরাপত্তা, ন্যাটো সম্প্রসারণ এবং পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।




