প্রোভিডেন্স মিউনিসিপাল কোর্টের সাবেক বিচারক, এবং টেলিভিশন ওয়েব সিরিজ Caught in Providence-এর রীতিমত জনপ্রিয় মুখ, ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই। প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও সাহসী সংগ্রামের পর তিনি ৮৮ বছর বয়সে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

21 August 2025 | Pic: Collected
ক্যাপ্রিও তাঁর বিচক্ষণ কৌতুক,অবিচলিত সহানুভূতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি নিজেকে কখনো কোনো মামলা থেকে তুচ্ছ মনে করেননি; বরং প্রত্যেক মামলায় তিনি যে তারুণ্য দেখান, সেটা আসলতে গণতান্ত্রিক আইনের মানুষের জন্য প্রযোজ্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ছিল। তাঁর এই করুণা-আধারিত বিচারধারা Caught in Providence শো-তে ফুটে উঠত, যা সাড়া ফেলে বিশ্বজুড়ে, মিন লুকিয়ে রাখা মানবিকতা এবং মানবিক তাচ্ছিল্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে ।
শো-র ক্লিপগুলো এক বিলিয়নেরও বেশি ভিউ পেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা প্রমাণ করে বিশ্ব কখনো ভুলবে না ক্যাপ্রিওর বিশ্বস্ততা, কোমলবাক্য এবং হৃদয়মুখর বিদায়াদীর্ণ বিচারপ্রক্রিয়াকে। “America’s nicest judge” নামে খ্যাত তিনি শুধু আইনের পক্ষেই নয়, মানুষের প্রতি সহানুভূতিতেও এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন ।
ধারণা করা হয়, ক্যাপ্রিও প্রথম বিচারক হিসেবে সমাজের নিচু ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সেবা করাকে বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তিতে পরিণত করেন। তিনি বলেছিলেন—“With liberty and justice for all…” কিন্তু বাস্তবে তা সকলের জন্য যে সহজলভ্য নয়, সেই বাস্তবতা উন্মোচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।
তাঁর মৃত্যু সংবাদের পর রোড আইল্যান্ডের গভর্নর ড্যান ম্যাককির নির্দেশনায় রাজ্যের সব সরকারি ভবনে জয়যাত্রার অর্ধ-স্তরে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেয়া হয়, যাতে তার অবদানের স্মৃতিকে মর্যাদা দেওয়া যায় ।
প্রশাসনজীবনে গ্রোথ থেকে রাজনৈতিক জীবন, বিচার থেকে সামাজিক সমর্থন—ক্যাপ্রিও ছিলেন সকলের কাছে এক মানবিক আদর্শ। তিনি ১৯৮৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রায় চার দশক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
শেষ পর্যন্ত, তাঁর মৃত্যুর পরেও ক্যাপ্রিওর দৃষ্টিভঙ্গি—একটি সহানুভূতিপূর্ণ, দয়া-বান্ধব বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাস—অনেকের হৃদয়ে থেকে গেছে। তাঁর প্রেরণা অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ মানুষ মানবিকতা এবং ন্যায়ের সেবায় ফিরে আসবে।
ইউনিদ শ্রদ্ধা ও শেষকৃত্য: ক্যাপ্রিওর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং আইন-সংস্কৃতির সঙ্গীরা তাকে শ্রদ্ধা জানান, আর তাঁর ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে যেসব উজ্জ্বল মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, সেগুলো সারাজীবন স্মৃতিতে রহে।




