ইসরায়েল সামরিক বাহিনী গাজা সিটির দিকে পরিকল্পিত নতুন আক্রমণের প্রথম ধাপ চালু করেছে, যার অংশ হিসেবে ৬০,০০০ রিজার্ভিস্ট সৈন্যকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ইতিমধ্যে ২০,০০০ সক্রিয় সৈন্যদের মেয়াদ বাড়িয়ে মোট প্রায় ১ লাখ সেনা মোতায়েন করা যায় — এই তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন, যিনি বলেছেন, “আমরা গাজা সিটির সংলগ্ন এলাকায় প্রাথমিক অপারেশন শুরু করেছি, এবং এখনই সৈন্যরা গাজা সিটির আশেপাশে অবস্থান করছে”।

21 August 2025 | Pic: Collected
এই পরিকল্পনার কোডনেম “Operation Gideon’s Chariots II” এবং এটি ইসরায়েলের ডিফেন্স মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অনুমোদন করেছেন; তবে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যুদ্ধ প্রক্রিয়া চালু বা পূর্ণ মেরুদণ্ডহীন অভিযান কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি । তাতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে, কারণ একদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি করেছেন যে গাজা সিটির আক্রমণ বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে, যেখানে ইতিমধ্যে হাজার হাজার, বিশেষ করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর অন্যদিকে অনেক বিলি ভুগছে খাবার, পানি ও ওষুধের অভাবে।
ইসরায়েলি সরকার হুমকি পূরণের পথে এগুচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কারণ ইসরায়েল চলমান যুদ্ধকে হামাসকে পরাস্ত করার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছে, যদিও হামাস ইজিপ্ট ও কাতার সংহতি করে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এছাড়া হিউম্যান রাইটস ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, যদি অভিযান পূর্ণ রূপে শুরু হয় তবে গাজা সিটিতে “জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি”, “অপুষ্টিতে মৃত্যুর ঝুঁকি” এবং “সামাজিক ভিত্তির ধ্বংস” অবস্হা সৃষ্টি হতে পারে। সার্বজনীন জনমতের চাপ আছে, যেখানে বিশ্বজনীন সহিংস সংঘর্ষ এবং মানবাধিকারে বিপর্যয় বাড়ছে, তাতে রাজনৈতিকভাবে সাধারণ জনতা ও অনেক ডিফেন্স রিজার্ভিস্টদের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
এই মুহূর্তে গাজা শহরে বাসকারী শত শত হাজার নিরীহ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দক্ষিণে পালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া কঠিন, কারণ বাধা ও নিরাপদ আশ্রয়হীনতার কথা তারা বারবার উল্লেখ করছেন । সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল এতদিনের সংঘর্ষকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে না, বরং এটি সামগ্রিক মানবিক সংকটকে অবিস্তৃত ভাবে জোরদার করবে, যা আন্তর্জাতিক মনোভাব ও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রচেষ্টাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।




