যুদ্ধবিমান, সংঘর্ষ ও সংকটের মাঝেও সত্য তুলে ধরার জন্য ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফটোজার্নালিস্ট ভ্যালারি জিংক সম্প্রতি রয়টার্স নিউজ এজেন্সি থেকে ৮ বছর কাজের অবসান ঘোষণা করেছেন। তিনি তার Facebook-এ নিজের রয়টার্স প্রেস পাস ছিঁড়ে ফেলা ছবি পোস্ট করে জানান, গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ২৪৬ জন সাংবাদিক নিহত হওয়া সংক্রান্ত দায় থেকে রয়টার্স মুক্ত নয়। তিনি বলেন, “রয়টার্স ‘ইসরায়েলের প্রপাগান্ডা’ ছড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক কাজকে বিপদে ফেলেছে”। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন অনস আল-শারিফ-এর ঘটনা, যিনি গাজায় আল জাজিরার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক ছিলেন এবং ইয়াইনসা পুলিতজার পেয়েছিলেন—তবে রয়টার্স “বিনা প্রমাণ ভিত্তিকভাবে” তাকে হামাস অপারেটিভ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা “অসংখ্য মিথ্যার মধ্যে একটি”।

26 August 2025 | Pic: Collected
এ ছাড়াও, হোসাম আল-মাসরি নামে রয়টার্সের একজন ক্যামেরাম্যান নেসার হাসপাতালের উপর ‘ডবল-ট্যাপ’ হামলায় নিহত হন এবং পরবর্তীতে ওই হামলায় আরও সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মী আহত হন। ভ্যালারি এই ধরনের চলমান হামলাকে কোনোভাবেই অবহেলার বা সহায়তার নয়, বরং “মিডিয়ার অবহেলার ফল” বলে উল্লেখ করেছেন । তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমা মিডিয়া নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে; তারা প্রমাণ যাচাই না করেই ইসরায়েলি বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে” এবং সেই কারণেই গাজার দ্রুত বর্ধমান সাংবাদিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্ব যুদ্ধে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যার মিলে গেছে—একটি ভয়াবহ পরিধি যেটি বিরল প্রেক্ষাপটে দেখা যায় ।
জিংক বলেন, “রয়টার্সে পুলিতজারজয়ী সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।” পাস ধারণাই এখন তার কাছে “বিপুল শোক ও লজ্জা” অনুভব করায়, এবং তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, তার পরের কাজ তারা “গাজার সাংবাদিকদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে” চালাবেন । এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে—প্রশ্ন হচ্ছে, সত্যের ঠিক প্রান্তে থাকা উচিত সাংবাদিকতা, নাকি গায়ক হিসেবে প্রভুত্বকে পাল্টে দেওয়া? জিংকের প্রতিক্রিয়া সেই সমালোচনার কণ্ঠস্বরকে আরও উচ্চ করেছে, এক সঙ্গে মানবাধিকার, শাস্তি ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্ন উন্মোচিত করেছে।




