নিউ ইয়র্ক সিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের মেয়রাল নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝে এমন সময় যখন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান ম্যামдани (Zohran Mamdani) তীব্র জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন, তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের মাঠে না নামলেও তার অদৃশ্য প্রভাব ও সম্ভাব্য অবদান দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প সুস্পষ্টভাবে ম্যামদানি বিরোধী রাজনীতিতে নীতিগত ভূমিকা রাখতে চান এবং ইতিমধ্যে ফ্রন্টরানারদের মধ্যে—হাইলি জনপ্রিয় ম্যামদানির বিপক্ষে—অন্তত দু’জন প্রার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ম্যামদানি বর্তমানে ৪২% সমর্থনে এগিয়ে আছেন এবং তার প্রোগ্রেসিভ প্রস্তাবনাগুলো যেমন ভাড়া জম freeze এবং ধনীদের অতিরিক্ত কর ধার্য করণ—সেগুলো বিশেষভাবে রঙিন মিডিয়াম এবং রিয়েল এস্টেট লবি উদ্বিগ্ন করেছে, যা তাকে একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে ।

26 August 2025 | Pic: Collected
সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো, যিনি ২০২১ সালে এক যৌন হেনস্থার অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করেছিলেন, স্বাধীন প্রার্থীরূপে “Fight and Deliver” প্ল্যাটফর্ম থেকে পুনরায় অবতীর্ণ হয়েছেন এবং ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ভেবেই রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। তিনি ও মেয়র এরিক অ্যাডাম্স—যিনি নিজের কৌটিল্যপূর্ণ দুর্নীতি অভিযোগ এড়াতে ফেডারেল কর থেকে সহায়তা পেয়েছিলেন—উভয়ই ট্রাম্পের হাত থেকে সমর্থন পেয়ে ম্যামদানির বিরুদ্ধে ভোট বিভাজন করে জয় লাভ করার চেষ্টা করছেন ।
ট্রাম্প নিজে সরাসরি একটি প্রার্থীকে সমর্থন করেননি, কিন্তু গোপনে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের মাধ্যমে কার্যকর সমর্থন দিতে ইচ্ছুক বলে গণমাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি কুয়োমোর সংগে ফোন কল করেছেন বলে জানা যায়—যদিও কুয়োমোর দফতর তা অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প ম্যামদানিকে “কমিউনিস্ট” বলে আক্রমণ করেছে, যা নিউ ইয়র্ক এর সম্ভাব্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক চরিত্রের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট আক্রমণমূলক রূপ । তিনি শুধুমাত্র কুয়োমো বা অ্যাডাম্সের প্রতি সমর্থন প্রকাশ না করলেও, একাধিক ট্রাম্প-সমর্থিত ভোটার ও দাতা ব্যালট কৌশল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কুয়োমো ও অ্যাডাম্স উভয়ই ট্রাম্পের সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হন, তাহলে সেই সমর্থন ম্যামদানির স্বতন্ত্র ভ্যাটে বিভেদের সৃষ্টি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে নির্বাচনের জয়ের পথে আরও এগিয়ে দিতে পারে । তবে এটাও একখানি অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে: ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক সিটিতে অপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে গণাদরিত—তার নাম মাত্র কোনো সমালোচনামূলক প্রভাবই বড় প্রার্থীর ক্ষতি করতে পারে। ম্যামদানি নিজে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেও যোগাযোগ করেননি এবং ট্রাম্প-মিডিয়া সম্পর্কের ব্যবহারে তার বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি আরো জানান, “যে কথা আমি রাস্তার পাশে বলি, প্রেস কনফারেন্সে বা সকালে একই কথা বলি, সেটিই আমার সত্য। আমি ট্রাম্পকে ফোন করে বুঝবো না; আমার ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব”—যা প্রতিদ্বন্দ্বী কুয়োমোর কৌশলের বিরুদ্ধে একটি ব্যক্তিগত ও স্বচ্ছ বার্তা ।
এখানে নির্বাচনের আরও প্রেক্ষাপট: Democratic প্রাইমারিতে মেমদানির পাওয়া ভোট ছিল ৫৬.৩৯%, কুয়োমো পেয়েছিলেন ৪৩.৬১%—এটি একটি ইতিমধ্যেই বাইরে আসা অবস্থাকে নির্দেশ করে । সাধারণ নির্বাচনে, ভোট বিভাজন হলে ম্যামদানি যে সুবিধা পেতে পারেন, তা স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একবার বলেনেছিলেন, তিনি অ্যাডাম্সকে “ভালো মানুষ” মনে করেন এবং “সামান্য সাহায্য” দিয়েছেন, যার ইঙ্গিত প্রাক্তন মেয়রের দুর্নীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ হতে পারে ।
বেলায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বোঝাচ্ছেন যে ট্রাম্পের অবচেতন প্রবেশ—যদিও এটি সরাসরি নয়—খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাকে সহায়তা পেতে পারে না এমন কোনো প্রার্থী নেই, তবে কেউ ট্রাম্পের উপশক্তির খুব বেশি গ্রহণ করলে ট্রাম্পের বিকৃত খ্যাতি তার পক্ষে বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, ট্রাম্প যদি একজন প্রার্থীকে শীর্ষে দেখে, তখন তার ঊভয়কা সমর্থন থেকে নির্বাচনী রঙ বদলে যেতে পারে।
সারকথা হল, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রাল নির্বাচনে ট্রাম্পের উপস্থিতি and প্রভাব একটি ছায়াময় ঘটনা, যা স্থানীয় রাজনীতির আলোচনাকে পুরোপুরি নতুন দিক দিয়েছে। ম্যামদানি, অ্যাডাম্স এবং কুয়োমো—প্রতিটি প্রার্থীই ট্রাম্পের সম্ভাব্য সমর্থন থেকে লাভবান হতে চায়, কিন্তু সেই সমর্থনই হতে পারে তাদের সফরেই ব্যাঘাত। যদিও ট্রাম্প সরাসরি নাম প্রত্যয়ন করেননি, তাঁর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ইতিমধ্যে নির্বাচনের গতিপথকে বদলে দিচ্ছে।




