প্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, গাজা স্ট্রিপের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের কাছে আমেরিকান সাহায্য কেন্দ্রের কাছে পেলেও খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি দূরদৌড়বিদ অল্লাম আল-আমুর।

27 August 2025 | Pic: Collected
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি খাবার নিয়ে ভাতার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু স্বপ্ন ছিল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পেট পূরণের। তিনি নিজে ছিলেন একটি আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতার ব্রোঞ্জ ধারের খেতাব অর্জনকারী এলিট অ্যাথলেট, যিনি ২০২৩ সালের ডোহায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট এশিয়া ক্লাবস অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৩০০০ মিটার যুব বিভাগে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছিলেন। প্যালেস্টাইন অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন ফেসবুকে শোক জ্ঞাপন করে বলেছে, “দুঃখ ও হৃদয়বিদারণের সাথে আমরা আমাদের সভ্যতার শক্তিশালী প্রতীক, যুব অ্যাথলেট আল-আমুরকে শহীদ হিসেবে স্মরণ করছি। তিনি খাদ্য ভাতা নিতে গিয়ে বল্লেটের নিশানে পরিণত হলেন।”
ফেডারেশন আরও উল্লেখ করে যে, “তিনি কখনো ভাবতেন না যে শেষ নিশ্বাস তিনি একটি দৌড়ের শুরুতে নয়, বরং আত্মীয়দের পেট ভরাতে গিয়ে গুলিতে মারা যাবেন”। এই ঘটনার মাধ্যমে শুধু একজন খেলা-প্রশংসক নয় বরং সমাজসেবামূলক চোখেও তিনি একজন আদর্শ হয়ে উঠেছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও খাবার সংগ্রহের সময় সহায়তা কেন্দ্রের কাছে গুলি চালানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষভাবে সামরিক বাহিনীর আচরণকে নৃশংস এবং অনিশ্চিত শাসনের লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজার পরিস্থিতি এখন মানবিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে; হাজারों মানুষ ক্ষুধায় নিস্তব্ধ এবং সাহায্যের জন্য মরিয়া, যেখানে সহায়তা কেন্দ্রগুলোই অনেক সময় গুলির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনারদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা নিতে গিয়ে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ গুলিতে নিহত বা আহত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নজর আকর্ষণ করেছে । সবমিলিয়ে, অল্লাম আল-আমুর নামে একজন ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষক ও আন্তর্জাতিক দৌড়বিদের ক্ষণস্থায়ী জীবন কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং মৃত দৌড়বিদের স্মৃতিচারণ করে তুলে ধরে, গাজা সংকটে মানবিকতা, নিরাপত্তার এবং বেঁচে থাকার অধিকার—এই সবের বাস্তব বিপর্যয়।




