যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক গত বৃহস্পতিবার সাবধান করে দিয়েছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তার বিরুদ্ধে “মর্টগেজ ফ্রড” এর অভিযোগ দেখিয়ে নির্বাহী ক্ষমতায় তাকে বরখাস্ত করার যে চেষ্টাটি হয়েছে তা বৈধ নয় এবং এটি ফেডের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। কুক ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ট্রাম্পের এই বরখাস্ত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে ফেড গভর্নরকে কেবলমাত্র “কারণ থাকলে (for cause)” বরখাস্ত করা যায় এবং ট্রাম্প এই মানদণ্ড পূরণ করেননি।

29 August 2025 | Pic: Collected
কারণ অভিযোগটি ২০২১ সালের ঘটনা যখন কুক ফেডে যোগ দেননি। কুকের পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত আচরণ ফেড গভর্নর পদ থেকে সরানোর বৈধ কারণ হতে পারে না এবং এটি সংবিধানের “due process” লঙ্ঘন করছে। ফেড গঠিত হয়েছে স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য এবং তাই এই মামলা শুধু কুকের ব্যক্তিগত ভবিষ্যত নয় বরং ফেডের স্বাধীনতার ভিত্তি টিকিয়ে রাখারও পরীক্ষা। মামলায় কুক একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন যাতে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত থাকে যতদিন মামলা চলবে। এই মামলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ এটি নির্বাহী ক্ষমতা ও স্বাধীন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সীমানা পরীক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই মামলা উচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে পারে এবং ফেডব্যাংকের উপর সরকারের প্রভাব সীমা নিয়ে মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায় কুক ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনয়নে ফেডের বোর্ডে যোগ দেন এবং তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি এই পদে আছেন। অভিযোগ আনেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ William Pulte যিনি ২০২১ সালের একটি ঘটনা দেখিয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে ফ্রডের অভিযোগ তোলেন। তবে এফবিআই বা বিচার বিভাগ এখনও কোনো চার্জ দেয়নি এবং কুক আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালত এখন পরীক্ষা করবে ফেড গভর্নরকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে “cause” শব্দের সংজ্ঞা কী হবে এবং তার পরিধি কোথায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই মামলার ফল মার্কেটের আস্থা ও ফেডের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ রাজনৈতিক প্রভাব যদি ফেডে ঢুকে পড়ে তবে মুদ্রানীতি ও সুদের হারের সিদ্ধান্ত ভেঙে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই মামলার বিচারক বাইডেন মনোনীত Jia Cobb দ্রুত শুনানির সময়সূচি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বলা যায় লিসা কুকের মামলা রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা, সংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন ও ফেডের স্বাধীন ভূমিকাকে ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত তৈরি করেছে যা আগামী সপ্তাহে আদালতে নির্ধারিত হবে। এটি শুধু একজন গভর্নরের ব্যক্তিগত লড়াই নয় বরং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার জন্যও বড় পরীক্ষা।




