যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড এবং নাগরিকত্ব প্রাপ্তি এখন থেকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যারা এই দেশে বসবাস করতে চান, তাদের অবশ্যই গুড মোরাল ক্যারেক্টারের অধিকারী এবং নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে। এর মানে, আবেদনকারীর বর্তমান এবং অতীত ইতিহাস পুরোপুরি পরিষ্কার এবং সত্য হওয়া আবশ্যক। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রিনকার্ড বা সিটিজেনশিপ দেওয়া হবে না। এছাড়াও, যারা জাল তথ্য বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আবেদন করবেন, তারা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্য শুধু অফিস বা বাড়ির নথি নয়, তার আশেপাশের প্রতিবেশীর কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা আশেপাশের মানুষ প্রায়ই জানেন।

4 September 2025 | Pic: Collected
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা গ্রিনকার্ড বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন বা করবেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক আরও ব্যাপক ও বিস্তারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ তার আবেদনপত্রে কর্মক্ষেত্র বা বাসার ঠিকানা দিয়েছেন, বাস্তবে যদি সেখানে থাকেন না বা কাজ না করেন, তবে তা ধরা পড়বে। কেউ এক স্টেটে আবেদন করে অন্য স্টেটে থাকলে, তাও নতুন নিয়ম অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও, ইবি থ্রি বা অন্য কোন ভিসার জন্য কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করলে এবং সেখানে কাজ না করলে, তাও তদারকি করা হবে। যেকোনো ঠিকানা পরিবর্তন হলে ১০ দিনের মধ্যে তা USCIS-কে জানানো বাধ্যতামূলক। এই ঠিকানা পরিবর্তন অনলাইনে ফর্ম পূরণের মাধ্যমে করা যায়, যা নতুন নিয়মের অংশ।
সূত্র জানায়, পূর্বে নিয়ম ছিল যে, আবেদনকারীর চাকরিক্ষেত্র ও বাসার ঠিকানার ভিত্তিতে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এখন নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে সঙ্গে যাদের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও সব তথ্য পরীক্ষা করা হবে। USCIS নিশ্চিত করবে যে, তথ্যগুলো সঠিক, সত্য এবং মিথ্যা বা জালিয়াতি কোনো উপায়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও, আবেদনকারীর অতীত এবং বর্তমান অপরাধমূলক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হবে। যদি কেউ অন্য দেশে বা নিজের দেশে কোনো অপরাধ করেছেন, তা বের হবে এবং তার প্রভাব গ্রিনকার্ড বা নাগরিকত্ব প্রাপ্তিতে পড়বে।
এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণার কেসও ফাঁস হবে। যেমন কেউ ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন করেছেন, বা চাকরির তথ্য মিথ্যা দেখিয়েছেন। কেউ এক স্থানে কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন, কিন্তু অন্যত্র কাজ করছেন—এসবই নতুন নিয়মে ধরা পড়বে। ফলে যারা অতীতে বা বর্তমানে কোনো অপরাধ করেছেন, তাদের জন্য জটিলতা এবং সমস্যার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এই কারণে আবেদনকারীদের সত্য ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
একজন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মন্তব্য করেছেন, “গ্রিনকার্ড বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে গেলে অবশ্যই সত্য নথিপত্র ও সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। কোনো ধরনের মিথ্যা, প্রতারণা বা জালিয়াতি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অসততা করলে আবেদনকারী বিপদে পড়বেন এবং আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হবেন।” এই মন্তব্য নতুন নিয়মের কঠোরতা ও স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করছে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, যারা এ দেশে বসবাস করবেন তারা নৈতিকভাবে সঠিক, স্বচ্ছ এবং নির্ভীক হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু বর্তমান অবস্থার নয়, অতীত ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হবে। আবেদনের সময় কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। আবেদনকারীর কর্মক্ষেত্র, ঠিকানা এবং আশেপাশের প্রতিবেশীর তথ্য যাচাই করা হবে। এই নিয়ম গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ করে তুলেছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যে কেউ এই ধরনের আবেদন করবে, তাদের অবশ্যই আইন, নৈতিকতা ও সত্যতার সঙ্গে মিল রেখে সমস্ত তথ্য প্রদান করতে হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের নিরাপদ ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করবে। ফলে নতুন নিয়মের আলোকে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীরা যেন সর্বদা সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যান।




