নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় এবং অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা গত মঙ্গলবার রাত থেকে কার্যকর হয়েছে—দেশের প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেনা মোতায়েন শুরু হয়, কারণ পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে বাধ্য হয় । সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বসনেট গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের দায়িত্ব হলো জনগণ ও সম্পত্তিকে সুরক্ষা দেওয়া, এবং এখন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত”—তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত সেনারা রাস্তায় থাকবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পাহারা দেবে।

10 September 2025 | Pic: Collected
রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বড় শহরগুলোতে ইতোমধ্যেই সেনারা টহল দিচ্ছে, সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির অফিস, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সরকারি দপ্তরে মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার পর ভবন রক্ষায় সেনারা মোতায়েন করা হয় । বিক্ষোভকারীরা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে পার্লামেন্ট ভবন, প্রেসিডেন্টের অফিস, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, এমনকি কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে, যা নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভয়াবহতম রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ বলে আখ্যা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সেনা হেলিকপ্টারে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রসহ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়—প্রধান সেনাপ্রধান জেনারেল অশোকরাজ সিগদেল বলেছেন, “আমরা সাংবিধানিকভাবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, তাই এই কঠিন সময়ে নেপালের মানুষের পাশে থাকতে হবে, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে”—তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান । রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করলেও তাঁর দল এ ঘটনার পেছনে “বিদেশি উসকানি”র অভিযোগ তুলেছে, তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তই দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নেপালের সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সহিংসতা আরও না বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও নেপালের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও জনগণের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপ নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ গত এক দশক ধরে দেশটি রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরের পরও স্থিতিশীল হতে পারেনি—বরং বারবার সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেনাবাহিনী যদি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হতে পারে, তবে অপরদিকে অনেক নাগরিক আশা করছেন সেনাদের উপস্থিতি অন্তত রাস্তায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন নেপালের দিকে, এবং দেখার বিষয়—এই সংকট সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক রূপ নেবে।




