দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় সুপারস্টার ও জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেতা আল্লু অর্জুনের বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বেআইনি নির্মাণের, আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দরাবাদের গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (GHMC) তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক কমপ্লেক্স ‘আল্লু বিজনেস পার্ক’-কে নোটিশ জারি করেছে। হায়দরাবাদের এক অভিজাত এলাকায় অবস্থিত এই ভবনটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়, যেখানে আল্লু অর্জুনের পরিবার পরিচালিত বিনোদন প্রযোজনা সংস্থা Geetha Arts ও Allu Arts-এর অফিস রয়েছে।

10 September 2025 | Pic: Collected
ভবনটি নির্মাণের সময় GHMC থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল দুই চরাস ভূমি এবং চারতলা ভবনের জন্য, কিন্তু সম্প্রতি তল্লাশিতে দেখা গেছে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলার কাজ করা হয়েছে এবং চতুর্থ তলার বাইরের অংশেও অনুমোদনবিহীন নির্মাণ করা হয়েছে, যা GHMC-র আইন অনুযায়ী বেআইনি। অভিযোগ উঠতেই GHMC সরাসরি আল্লু অর্জুনের বাবা ও প্রযোজক আল্লু আরাভিন্দকে নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে, কেন অনুমোদন ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হতে পারে। Times of India-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, GHMC-র কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়েই দেখতে পান অনুমোদনের সীমা ছাড়িয়ে ভবন সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই নিয়ম ভঙ্গের শামিল। তাই ভবিষ্যতে এই ভবনের উপর জরিমানা আরোপ করা কিংবা অবৈধ তলা ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আল্লু অর্জুনের ভক্তদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতার পরিবারের এমন কর্মকাণ্ড দুঃখজনক, আবার কেউ কেউ মনে করছেন হয়তো ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিষয়টি বড় আকার নিয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, GHMC যদি সত্যিই অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ প্রমাণ করতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে আল্লু পরিবারকে জরিমানা গুনতে হতে পারে এবং অবৈধ অংশ গুঁড়িয়ে ফেলা হবে। ভারতের বড় শহরগুলোতে এই ধরনের বেআইনি নির্মাণের ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন ব্যবসায়িক ভবন ও আবাসিক কমপ্লেক্স নিয়ম ভেঙে তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। তবে এবার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে শুধু এই কারণে যে এটি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বড় তারকা আল্লু অর্জুনের পরিবারের সম্পত্তি। অর্জুন সম্প্রতি তাঁর ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পুষ্পা: দ্য রুল’ এর জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন এবং তাঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে শীর্ষে। তাই এমন সময়ে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ভক্তদের মধ্যে এক ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে।
GHMC-এর মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, “যে কোনো অবৈধ নির্মাণ আইনের আওতায় পড়বে। এখানে তারকার পরিবার জড়িত কিনা সেটা বিষয় নয়, আইনের চোখে সবাই সমান।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে প্রশাসন কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। এমনকি GHMC-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অবৈধ অংশ ধ্বংস করা হবে। এদিকে আল্লু অর্জুন বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, পরিবার বিষয়টি আইনি পথে সমাধান করার চেষ্টা করছে এবং GHMC-এর নোটিশের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে বিনোদন দুনিয়ার বাইরে সাধারণ মানুষও এখন GHMC-এর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকেই বলছেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিরা যদি নিয়ম না মানেন তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যায়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজে ন্যায়বিচারের বার্তা ছড়াবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও চিন্তায় রয়েছে, কারণ Allu Business Park এলাকায় একটি বড় আকর্ষণ এবং এখানে অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি অফিস ভাড়া নিয়েছে। যদি সত্যিই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়, তবে সেসব অফিসের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন শুধু আল্লু পরিবার নয়, হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী ও বিনোদন মহলের কাছেও একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে আইন প্রয়োগ হয় না। এবার GHMC যদি সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ নেয় তবে এটি একটি নজির তৈরি করবে এবং অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হবে। আল্লু অর্জুন বর্তমানে নতুন সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত, তবে এই ঘটনার কারণে তাঁর ইমেজ কিছুটা হলেও চাপে পড়েছে। তাঁর ভক্তরা আশা করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে এবং কোনো বড় আইনি জটিলতায় যেন তিনি না জড়ান। তবে প্রশাসনের অবস্থান যেহেতু কঠোর, তাই আগামী দিনগুলোতে GHMC ও আল্লু পরিবারের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।




