নিউইয়র্কে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সালভাটোর এ. বুশেমি, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, হঠাৎই নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সম্ভবত নিজের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রেক্ষাপট ঘিরে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ঘটনার একদিন আগে তিনি ফেডারেল তদন্তের আওতায় এসেছিলেন।

10 September 2025 | Pic: Collected
বিবিসি, নিউইয়র্ক পোস্ট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বুশেমি ছিলেন নয় বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন NYPD অফিসার। কয়েকদিন আগে তিনি ইতালি সফর শেষে নিউইয়র্কের JFK বিমানবন্দরে নামেন। সেখানেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) কর্মকর্তারা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাকে কিছু প্রশ্ন করার পাশাপাশি তার চারটি নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেন। পরে NYPD কর্তৃপক্ষ তাকে “মডিফায়েড ডিউটি”তে রাখে, অর্থাৎ নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কিছু সীমিত দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়।
এর ঠিক পরদিন সকালেই ওয়েস্ট আইসলিপ এলাকায় তার বাড়ি থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় Suffolk কাউন্টি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক আলামত দেখে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাড়িতে থাকা অন্য একটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিজের ওপর গুলি চালান। তবে পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, তদন্ত এখনো চলছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
মানসিক চাপ না কি অন্য কিছু?
অফিসারের মৃত্যুতে তার সহকর্মী এবং প্রতিবেশীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, হঠাৎ করে ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেমির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ফেডারেল তদন্ত চলছিল তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এই তদন্তকে কেন্দ্র করে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেই অনেকের ধারণা।
একজন সহকর্মী বলেন, “বুশেমি ছিলেন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল অফিসার। কিন্তু শেষ কয়েকদিন তাকে অস্বাভাবিক চাপে ভুগতে দেখা গেছে।”
NYPD ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের নীরবতা
এই ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি। তারা শুধু জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানাতে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চায় না। একইভাবে HSI–ও এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
তবে Suffolk কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবুও তারা অন্য কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন আলোচনা
এই মৃত্যুর ঘটনাটি নিউইয়র্কে আবারও আলোচনায় এনেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই দেখা যায়, চরম চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, এবং তদন্ত বা শৃঙ্খলাভঙ্গ মামলার কারণে পুলিশ কর্মকর্তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিউইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত কয়েক বছরে NYPD–র একাধিক কর্মকর্তা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। অনেক পুলিশ ইউনিয়নও অফিসারদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।
পরিবার ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
বুশেমির মৃত্যুতে তার পরিবার ভেঙে পড়েছে। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি মৃত্যুর আগে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। প্রতিবেশীরাও হতবাক হয়ে বলেছেন, “তিনি শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন। হঠাৎ করে এমন কিছু করবেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন।”
জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, যদি একজন অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার এভাবে হঠাৎ মৃত্যুর মুখে পড়তে পারেন, তবে ফেডারেল তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানবিক দিক নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে হবে।
সামনে কী হতে পারে?
বর্তমানে Suffolk কাউন্টি পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে হয়তো জানা যাবে, আসলেই এটি আত্মহত্যা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।
এই ঘটনার পর পুরো নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, এমন মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং গোটা বাহিনীর জন্যই এক বড় ধাক্কা।




