জেপি মরগান চেজের সিইও জেমি ডাইমন সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “অর্থনীতি দুর্বল হচ্ছে” এবং “মন্দার দিকে যেতে পারে।” ডাইমনের মন্তব্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। প্রথমত, শ্রম বাজারের দুর্বলতা। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (BLS) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত বছরে প্রায় ৯১১,০০০ কম চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।

12 September 2025 | Pic: Collected
এটি ২০০০ সালের পর সবচেয়ে বড় সংশোধন। জুলাই মাসে মাত্র ৭৩,০০০ এবং আগস্টে ২২,০০০ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে, যা শ্রম বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দ্বিতীয়ত, মুদ্রাস্ফীতি। মার্চের পর থেকে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯ শতাংশে, যা জানুয়ারির তুলনায় সবচেয়ে বেশি। খাদ্যপণ্যের দামও মাসে ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও ভোক্তা ব্যয় কিছুটা শক্তিশালী আছে, তবে নিম্ন আয়ের মানুষদের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে এবং তাঁদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ।
আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি, ট্যারিফ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই সব কারণে জেমি ডাইমন সতর্ক করে বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরেও অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়বে না, তবে মন্দার ঝুঁকি কমে যাচ্ছে না। এছাড়া, বেসরকারি ঋণ বাজার ও কম স্বচ্ছতা সম্পন্ন ঋণও অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের সাবেক সিইও লয়েড ব্ল্যাঙ্কফেইনও একই রকম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারি ঋণ বাজারে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, খরচ কমানো, সঞ্চয় বৃদ্ধি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত। তারা আরও বলেছেন যে সরকারের উচিত এই ধরনের পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি করা, যাতে সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদে থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে, মার্কিন অর্থনীতি এখনও কিছু ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকলেও, শ্রম বাজারের দুর্বলতা, মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক চাপ এবং ঋণজনিত ঝুঁকি অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই সকলের জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া এবং সতর্ক থাকা সময়ের দাবি।




