মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা নীতি চালু করেছে, যা ইতিমধ্যেই হাজারো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Reuters, CBS News, The Guardian-এর খবরে জানা যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্ট হঠাৎ করে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় (appointments) দেবে না এবং ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যম কার্যকলাপ আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

14 September 2025 | Pic: Collected
এর ফলে বর্তমানে F, M ও J ভিসা ক্যাটাগরির অধীনে যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি দিয়ে রেখেছেন বা পরিবার থেকে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছেন, কিন্তু হঠাৎ এই নিয়মে তাদের পরিকল্পনা আটকে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ সীমিত করতে চাইছে এবং একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সামাজিক মাধ্যমকে একটি বড় যাচাইয়ের হাতিয়ার বানাচ্ছে। CBS News জানায়, সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত বা সরকারবিরোধী লেখা থাকলে সেটি ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে। The Guardian উল্লেখ করে, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোও এতে বিপদে পড়েছে, কারণ তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে বিপুল অর্থ আয় করে থাকে, আর এই ধাক্কায় ভর্তি সংখ্যা কমে যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো বলছে, এভাবে মাঝপথে ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হলে তাদের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও মানসিক চাপ বাড়বে, কারণ সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। নীতি সমালোচকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক সুনামেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। Reuters-এর খবরে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও কবে আবার সাক্ষাৎকার শুরু হবে তা পরিষ্কার নয়, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।




