ইংল্যান্ডের পশ্চিম মিডল্যান্ডসের ওল্ডবারি এলাকায় (Oldbury, Birmingham) এক ভয়াবহ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এখানে মাত্র ২০ বছর বয়সী এক সিক তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং এই অপরাধকে পুলিশ সরাসরি একটি hate crime বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার সকালে, প্রায় ৮:৩০ টার দিকে, যখন তরুণীটি রাস্তায় যাচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দু’জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ তাকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং সেই সময় ভুক্তভোগীর উদ্দেশে অপমানজনক বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বলে শোনা যায়। তারা বলেছিল, “You don’t belong in this country, get out” অর্থাৎ “তুমি এই দেশে থাকার যোগ্য নও, বের হয়ে যাও।

14 September 2025 | Pic: Collected
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি কেবল ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং বর্ণবিদ্বেষ থেকে চালিত একটি ঘৃণ্য অপরাধ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই জনের মধ্যে একজনের মাথা শেভ করা ছিল এবং সে গ্লাভস পরে ছিল। অপরজন ধূসর স্টেটশার্ট (grey sweatshirt) পরা ছিল, যাতে সিলভার রঙের জিপ ছিল। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম কাজ করছে এবং পুলিশ আশেপাশের এলাকার CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করছে, যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা ও সাপোর্ট দেওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মাঝে এই ঘটনা তীব্র ক্ষোভ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। সিক সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা যুক্তরাজ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালাগালি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু এবার সরাসরি যৌন সহিংসতার সঙ্গে তা মিশে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় এমপিরা (সাংসদ) এই ঘটনায় “shock and horror” প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশকে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে পুলিশ জানাচ্ছে, আপাতত তারা এটিকে একটি “isolated incident” বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের মানুষ বলছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো যে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এখনো নিরাপদ বোধ করেন না। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কঠোর আইন প্রয়োগ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নারীর অধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ, আর যখন তা বর্ণবিদ্বেষের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তখন এর মানসিক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা চলছে এবং স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলোও তাকে আইনি ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, হাজারো মানুষ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ২১শ শতকে এসে যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে কিভাবে এখনো এমন ঘটনা ঘটছে, যেখানে একজন তরুণী শুধু নারী হওয়ার কারণে নয়, বরং ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ায় এমন নৃশংস সহিংসতার শিকার হলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের আইনে ধর্ষণ ও বর্ণবিদ্বেষ—দুটোই আলাদা গুরুতর অপরাধ, আর যখন দুটি একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয় তখন অপরাধীদের শাস্তি আরও কঠোর হওয়ার কথা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়মিত তদারকি করবেন। সব মিলিয়ে, পশ্চিম মিডল্যান্ডসে তরুণীটির ওপর সংঘটিত এই নৃশংস ধর্ষণ এখন যুক্তরাজ্যের জন্য একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা কিভাবে ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।




