যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থী ভ্যালেন্টিনা গোমেজ সম্প্রতি এক বিতর্কিত নির্বাচনী প্রচারণা ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি কুরআন পুড়িয়ে ইসলাম ধর্মকে “শেষ করার” শপথ নিয়েছেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং গোমেজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তাকে একটি ফ্লেমথ্রোয়ার ব্যবহার করে কুরআন পুড়িয়ে দিতে দেখা যায় এবং বক্তব্যে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যেমন বলেন, “আপনার কন্যারা ধর্ষিত হবে, এবং আপনার পুত্ররা শিরচ্ছেদ হবে, যদি আমরা ইসলামকে থামাই না।” এছাড়া তিনি দাবি করেছেন যে, “আমেরিকা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র, তাই সন্ত্রাসী মুসলিমরা ৫৭টি মুসলিম দেশে ফিরে যাক।” এই বক্তব্যগুলো ধর্মের প্রতি ঘৃণাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

18 September 2025 | Pic: Collected
গোমেজের এই কর্মকাণ্ডের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ জনগণ তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। টেক্সাসের অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যান পত্রিকা এক সম্পাদকীয়তে গোমেজের কর্মকাণ্ডকে “বিপজ্জনক, অসহিষ্ণু এবং অ-আমেরিকান” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা এই কুরআন পোড়ানোকে “ঘৃণার প্রচার” হিসেবে অভিহিত করেছেন। গোমেজের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তিনি নিজেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচ্য বিষয়।
ভ্যালেন্টিনা গোমেজের অতীতেও বিতর্ক রয়েছে; তিনি পূর্বে মুসলিম, অভিবাসী ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এবং কিছু নির্বাচনী প্রচারণা ও ভিডিওতে ভুয়া ফায়ারিং এবং বই পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এইসব কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক প্রচারণায় ধর্ম, জাতি ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের উচিত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
গোমেজের এই কর্মকাণ্ড শুধু তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, সমগ্র সমাজের জন্য সতর্কবার্তা যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক শান্তি রক্ষায় সকলের দায়িত্ব অপরিহার্য। সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ধর্মীয় নেতারা একত্রিত হয়ে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক বা বিদ্বেষপূর্ণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বর্তমানে, ভ্যালেন্টিনা গোমেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার কর্মকাণ্ডের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




