নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্সে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মাত্র ১৯ বছরের বাংলাদেশি তরুণ উইন রোজারিও। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি মানসিক সংকটে ভুগতে ভুগতে নিজেই ৯১১ এ কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া পাওয়ার বদলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা—সালভাটোর আলগোনি ও ম্যাথিউ চিয়ানফ্রোকো—তার বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে টেজার ব্যবহার করেন এবং পরপর গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেন। পুলিশের দাবি ছিল রোজারিও একটি রান্নাঘরের কাঁচি হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু বডি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় তিনি খালি হাতে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার মা নোটান ইভা কস্তা পুলিশকে বারবার অনুরোধ করছিলেন যেন গুলি না চালানো হয়। হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য প্রকাশের পরই পরিবার ও সম্প্রদায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিবার অভিযোগ করছে—সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে উইনকে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

19 September 2025 | Pic: Collected
এই ঘটনার পরপরই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এনওয়াইপিডির ওই দুই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানায়। Justice Committee, Desis Rising Up & Moving এবং আরও কয়েকটি সংগঠন মেয়র এরিক অ্যাডামস ও পুলিশ কমিশনার এডওয়ার্ড কিশের কাছে চিঠি লিখে দ্রুত Civilian Complaint Review Board (CCRB) এ অভিযোগ দাখিল করার আহ্বান জানায়। চিঠিতে বলা হয়েছে—এটি স্পষ্টতই একটি অপ্রয়োজনীয় হত্যাকাণ্ড, যেখানে একজন অসহায় তরুণকে সঠিক সহায়তা না দিয়ে জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, মানসিক সংকটের মুহূর্তে পুলিশ নয় বরং স্বাস্থ্যসেবা বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। যদি সেই প্রক্রিয়া কার্যকর থাকত, তাহলে হয়তো উইন রোজারিওর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। এদিকে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তা আপাতত ‘ডেস্ক ডিউটি’তে আছেন। তবে এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা অভিবাসী সমাজের জন্যই এক অশেষ শোকের বিষয়। কারণ, একজন তরুণ যে সাহায্যের আশায় পুলিশ ডাকল, শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশই তার জীবন কেড়ে নিল। তারা আরও বলেন, যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।
মানবাধিকারকর্মীরা জোর দিয়ে বলছেন, এ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নীতি পরিবর্তন করে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার জন্য পুলিশ নয়, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা পাঠানো হয়। রোজারিওর পরিবারও এই দাবির সঙ্গে একমত হয়ে বলছে, “আমাদের ছেলেকে আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে হয়তো আর কোনো পরিবারকে এই কষ্ট পেতে হবে না।”




