নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমো এবার নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি তিনি কুইন্সে একটি মসজিদে গিয়ে প্রচারণা চালান। ধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোকে অনেকেই ‘অযথাযথ ও সংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করেছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, কুওমো মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটকে টার্গেট করে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিষয়টি জনমতকে নাড়া দিয়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তপ্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

21 September 2025 | Pic: Collected
ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, আমেরিকায় ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। কিন্তু উপাসনালয়ে গিয়ে সরাসরি নির্বাচনী প্রচার চালানো আইন ও সামাজিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকেই বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে পারে। একই সঙ্গে ধর্ম ও রাজনীতির মিশ্রণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বিভাজন তৈরি করবে।
অন্যদিকে কুওমো তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো জানতেই মসজিদ সফর করেছেন। তিনি এটিকে স্বাভাবিক ‘সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপ’ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে বিরোধীরা মনে করছেন, এটি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল। তারা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের সময় কাছে এসে ভোটের জন্য ধর্মীয় জায়গাকে ব্যবহার করা এক ধরনের ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদ’।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এ ঘটনার সমালোচনা করেছে। অনেকেই বলছেন, কুওমোর এই প্রচার প্রচেষ্টা মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করে তুলতে পারে। ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করা বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইস্যু নির্বাচনী মাঠে কুওমোর জন্য যেমন চাপ তৈরি করবে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বীরা এটিকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, মসজিদে প্রচারে গিয়ে কুওমোর পদক্ষেপ তাকে বিতর্কে ঠেলে দিয়েছে। এখনো ভোটারদের বড় অংশ এ নিয়ে বিভক্ত। কেউ বলছেন এটি ‘সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ’, আবার কেউ বলছেন এটি ‘ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশানো’। নির্বাচনের আগে এই বিতর্কের প্রভাব কুওমোর প্রচারে পড়বেই।




