সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত “স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট” বা “মিউচুয়াল ডিফেন্স” চুক্তিতে পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে তারা চুক্তিটি শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইশক দার বলেছেন যে এই চুক্তিতে গালফ দেশগুলো এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোরও আগ্রহ রয়েছে অংশগ্রহণ করার, এবং “দেয়াল বন্ধ নয়” বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দরজা খোলা রয়েছে অন্য দেশগুলোর জন্যও। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওজা মোহাম্মদ আসিফ বলছেন যে এই চুক্তিতে “মিলিত প্রতিরক্ষা” বা “mutual assistance” বিষয়টি রয়েছে — অর্থাৎ যদি কোনো জায়গায় আক্রমণ হয়, তাহলে উভয় দেশ মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে। যদিও তিনি জোর দিয়েছেন যে চুক্তি আক্রমণমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, তবে যদি কেউ আক্রমণ চালায় তবে তারা সাড়া দেবে।

21 September 2025 | Pic: Collected
এই চুক্তিতে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হল যে পাকিস্তান ঘোষণা করেছে, তারা যদি প্রয়োজন হয়, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা সৌদি আরবকে ব্যবহার করতে দেবে। যদিও পারমাণবিক অস্ত্রকাণ্ডে সরাসরি কিছু ব্যাবহার করা হবে কি না, সেটা এখনও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ হয়নি, এবং পাকিস্তান জানিয়েছে এই সক্ষমতাগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে। সূত্র হিসেবে AP News এবং Reuters বলছে যে পারমাণবিক “শিল্ড” বা umbrella বিষয়টি চুক্তির অংশ হতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষর হয় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, রিয়াদে, সৌদি আরবের আল ইয়ামামাহ প্যালেস-এ, যেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মেদ বিন সালমান উপস্থিত ছিলেন। চুক্তির একটি মৌলিক শর্ত হলো: যে কোনো ধরনের আগ্রাসন যদি হয় পাকিস্তান বা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে, সেটিকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ধরা হবে। অর্থাৎ, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি “একটি দেশে হামলা হলে, অন্য দেশও প্রতিক্রিয়া দেবে” নীতি গৃহীত হয়েছে।
এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়; এতে রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা, শক্তি ও সামরিক কৌশলের পাশাপাশি নীতি-সমন্বয়ের বিষয়াদি, এবং সম্ভাব্য রূপে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা অংশগ্রহণের ঘোষণা। বিশেষ করে পারমাণবিক ডিটারেন্স (nuclear deterrence) বিষয়সম্পর্কে “নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম” সৌদি আরবকে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও পাকিস্তান জানিয়েছে, যদিও তারা বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার চুক্তির উদ্দেশ্য নয়, এবং কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (India-সহ) নির্দেশ করা হয়নি।
ভারত এই চুক্তির প্রতি নজর দিচ্ছে। ভারত সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছে যে তারা চুক্তির পরিস্থিতি মনোযোগ সহকারে দেখছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য প্রভাবগুলো বোঝার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে; কারণ গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা শক্তির উপর নির্ভর করে왔, কিন্তু এই ধরণের নতুন সামরিক ও পারমাণবিক “শেল্টার” বা umbrella-ব্যবস্থা তাদের গতানুগতিক নিরাপত্তা কৌশলকে বদলে দিতে পারে।




